জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জেলা ছাত্রদল ও জেলা যুবদলের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে শহরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে চার বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে এমন সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
একই দিনে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, এনসিপি হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। দলটির কর্মসূচিতে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল ও জেলা যুবদলও একই দিনে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। একই সময়ে একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করে।
আগের দিনের সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০
এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সংলগ্ন থানা মোড় এলাকায় এনসিপির সমাবেশ শেষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর সার্কিট হাউসের দিকে যাওয়ার সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী এবং হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহবুব চৌধুরী মুবিন।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
সংঘর্ষের পর এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল অভিযোগ করেন, সমাবেশ শেষে তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, ছাত্রদল বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন না। তাঁর দাবি, উসকানিমূলক বক্তব্যে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ার ফলেই এ ঘটনা ঘটেছে।
প্রশাসনের অবস্থান
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে, সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের প্রতি আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
আরও পড়ুন:






.jpg)

