জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র, কোনো দেশের আধিপত্য মেনে নেবে না। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল সীমান্ত সুরক্ষা, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের আন্দোলন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণঅভ্যুত্থান হয়েছে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির জন্য এবং নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার জন্য। আমরা কারো আধিপত্য মেনে নেব না, ভারতেরও না, আমেরিকারও না।”
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরও দেশের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের অনেক কিছু বাস্তবায়িত হয়নি। এ কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা রয়েছে। তবে তার মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এখনো চলমান।
তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য। এবার আমরা দুটি ভোট দিয়েছি। কিন্তু এখনো গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হয়নি। যারা প্রথমবার ভোট দিয়েছেন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, তাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ তুলে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়টির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি বঞ্চনার শিকার হয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগসহ সব প্রক্রিয়া নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন, প্রক্টর অধ্যাপক মো. নাসির উদ্দিন, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জগন্নাথ ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেলসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।
আরও পড়ুন:


.jpg)





