বুধবার

২২ জুলাই, ২০২৬ ৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩

এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে ড্রাইভারের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৬ ২০:০১

শেয়ার

এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে ড্রাইভারের মামলা
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবী থানায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)। আসামিদের মধ্যে আমিনুর রহমান মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই।

আদালতের আদেশ

এ দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে আসামি পক্ষে কোনো জামিন আবেদন ছিল না।

এজাহারে যা বলা হয়েছে

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার রোজ গার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু অপ্রীতিকর ভিডিও সংগ্রহ করে নজরুলকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে সোমবার (১৪ জুলাই) নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালায়।

হামলার অভিযোগ

ওবায়দুর বলেন, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় ওবায়দুর স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তার অভাবে আত্মগোপনে রয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

মামলাটি তদন্ত করে আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এর মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।



banner close
banner close