স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, সরকারের কার্যক্রমে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা-কর্মীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণার বিধান প্রস্তাবিত নির্বাচনী আচরণবিধিতে যুক্ত করা হোক।
সম্প্রতি ইসির জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেয় জামায়াত। বিষয়টি নিশ্চিত করে দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের শনিবার বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দলের নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে ইসিকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং কমিশন তা বিবেচনা করবে বলে তারা আশা করছেন।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করলে তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
এদিকে সরকার আগামী অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতারা অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ এসব নির্বাচন দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে সংসদেও প্রশ্ন উঠলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। নির্বাচন কমিশনও এর আগে জানিয়েছিল, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংলাপ না করে খসড়া আচরণবিধির ওপর লিখিত মতামত চেয়েছে ইসি। সেই মতামতের অংশ হিসেবেই জামায়াত আওয়ামী লীগের নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে।
এ ছাড়া জামায়াত আরও কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা, স্থানীয় সরকার প্রশাসনের প্রশাসক বা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রচারণার জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, প্রার্থিতা বাতিলের পাশাপাশি আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করা, নির্বাচনী ক্যাম্পে এলইডি ডিসপ্লে, প্রজেক্টর ও ল্যাপটপ ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট বিধান এবং সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করা।
দলটি দুটি বিশেষ প্রস্তাবও দিয়েছে। একটি হলো সংরক্ষিত নারী সদস্যপদের ব্যবস্থা বাতিল করে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে নারী সদস্যদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত করার ব্যবস্থা চালু করা। অন্যটি হলো জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোটার নির্ধারণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা।
আরও পড়ুন:








