বুধবার

১৫ জুলাই, ২০২৬ ৩১ আষাঢ়, ১৪৩৩

বিএনপির মোড়কে আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন রাশেদ খানের?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৪

শেয়ার

বিএনপির মোড়কে আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন রাশেদ খানের?
ছবি সংগৃহীত

রাজনৈতিক অঙ্গনে সুবিধাবাদ, দলবদল আর বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে বারবার আলোচনায় আসেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান বিএনপি নেতা রাশেদ খান। এবার তার বিরুদ্ধে উঠেছে বিএনপির মোড়কে পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগকে প্রমোট করার গুরুতর অভিযোগ। সম্প্রতি তার একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফটো কার্ডে দেখা যায়, রাশেদ খান এনসিপিকে চরম হুমকিমূলক একটি বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, বিএনপি যদি আওয়ামী লীগকে একটু ছাড় দেয়, আওয়ামী লীগের নেতারাই এনসিপিকে বঙ্গোপসাগরে পাঠিয়ে দিবে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের ভয় দেখিয়ে রাশেদ খান আসলে কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছেন? তার এমন বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রতি এক ধরনের প্রচ্ছন্ন সমর্থন এবং তাদের শক্তিমত্তারই প্রচার দেখছেন অনেকে।

শুধু তাই নয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনকেও বিতর্কিত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, এই বিক্ষোভ নাকি পূর্বপরিকল্পিত এবং এর পেছনে শিবিরের উসকানি রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের একটি অংশের আন্দোলনকে জড়িয়ে, বিরোধীদলের নেতিবাচক প্রসঙ্গ টানায় সন্দিহান খোদ ছাত্রসমাজ।

অবশ্য রাশেদ খানের এমন ভোল পাল্টানো নতুন কিছু নয়। এর আগে, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে শেখ হাসিনাকে মমতাময়ী মা বলে সম্বোধন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।

আবার হাসিনা পতনের পর পরই রাতারাতি বনে যান শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের আসন পাকাপোক্ত করতে এবং মনোনয়ন পেতেই তিনি হঠাৎ বিএনপিতে যোগ দেন বলে, মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ।

এছাড়াও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নামের হল পরিবর্তনের দাবিরও কড়া সমালোচনা করতে দেখা যায় তাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি এবং খেলাফত মজলিসের নেতাদের বিরুদ্ধেও তিনি বেফাঁস ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশেদ খানের কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ নেই। যখন যেই সরকার ক্ষমতায় থাকে, নিজের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদেরই তাঁবেদারি করেন।

ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মাঝে বিভেদ সৃষ্টি এবং পতিত স্বৈরাচারকে পুনর্বাসনের এই রোডম্যাপ থেকে রাশেদ খানকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।



banner close
banner close