শনিবার

১১ জুলাই, ২০২৬ ২৭ আষাঢ়, ১৪৩৩

বিএনপির ইতিহাস প্রতারণার ও প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী তারা: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬ ২০:১১

শেয়ার

বিএনপির ইতিহাস প্রতারণার ও প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী তারা: নাহিদ ইসলাম
ছবি সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে বিএনপি প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী হলেও পরবর্তীতে আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার থেকে সরে গেছে। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধ এবং উত্তরাঞ্চলের জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন যে বিএনপির ইতিহাস মূলত প্রতারণার ইতিহাস। তিনি দাবি করেন, বিএনপি প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং নির্বাচনের পর গণভোট নিয়েও লুকোচুরি করেছে। তার ভাষ্যমতে, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর সবার দাবি অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে ক্ষমতায় এলেও পরে বিএনপি তা অস্বীকার করে। এর ফলে গত ১৬ বছর দলটিকে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতেই আন্দোলন করতে হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন যে বিএনপি গণভোট, ৩১ দফা এবং জুলাই সনদের অঙ্গীকার থেকে সরে গিয়ে গণতন্ত্রের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সংস্কার ও গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার থেকে সরে গেলে আন্তর্জাতিক মহলও দেশ পরিচালনায় সহযোগিতায় আগ্রহী হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

দেশের চলমান সংকট ও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন যে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের অর্জন শূন্য। তিস্তা মহাপরিকল্পনা কিংবা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। জাতীয় ঐক্য না থাকলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাওয়া কঠিন হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাজেট ও আঞ্চলিক বৈষম্যের বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে নতুন বাজেটে রংপুর অঞ্চলকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই বিভাগের অধিকাংশ আসন বিরোধী দলের হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন যে আগে গোপালগঞ্জে বরাদ্দ বেশি দেওয়া হতো, এখন তা বগুড়ার শিবগঞ্জে দেওয়া হচ্ছে। অথচ প্রকৃত বৈষম্যের শিকার রংপুরবাসী বড় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প পায়নি। তিনি রংপুরের জন্য বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ এবং দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।

অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন যে ঘোষিত বাজেটে ব্যাংক খাতের সংস্কার, অর্থ পাচার রোধ কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। এছাড়া সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত তাকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান। এছাড়া ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন।



banner close
banner close