শনিবার

১১ জুলাই, ২০২৬ ২৭ আষাঢ়, ১৪৩৩

রাজার হালে মুম্বাইয়ে হাসানাত আব্দুল্লাহ, দাবি পলাতক আ.লীগ নেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫১

শেয়ার

রাজার হালে মুম্বাইয়ে হাসানাত আব্দুল্লাহ, দাবি পলাতক আ.লীগ নেতাদের
ছবি সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বর্তমানে ভারতের মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইয়ের অভিজাত বান্দ্রা এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন বলে দাবি করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কলকাতায় অবস্থানরত তিন পলাতক নেতা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন শুরুর সময় দেশত্যাগের পর তিনি প্রথমে দিল্লি, পরে রাজস্থানের আজমীর শরিফ এবং বর্তমানে মুম্বাইয়ে অবস্থান করছেন।

পলাতক নেতাদের দাবি, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য পদ পর্যন্ত মনোনয়ন ও দলীয় কমিটি গঠনে অর্থের বিনিময়ে প্রভাব খাটিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এভাবে তিনি কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন এবং ভারতের দিল্লি, রাজস্থান, কলকাতা ও মহারাষ্ট্রে একাধিক ফ্ল্যাট ও সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক পলাতক নেতা দাবি করেন, দেশে রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিলেই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বিদেশে চলে যেতেন। জুলাই আন্দোলনের শুরুতেই তার দেশত্যাগও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতে অবস্থানরত বরিশালের সাবেক এক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্যের দাবি, দেশ ছাড়ার পর আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ প্রথমে কলকাতার একটি ফ্ল্যাটে ওঠেন, পরে আজমীর শরিফে যান। সরকার পতনের পর কিছুদিন দিল্লিতে অবস্থান করে বর্তমানে তিনি মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় বসবাস করছেন।

কলকাতার নিউটাউনে অবস্থানরত বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের এক পলাতক নেতার ভাষ্য, বান্দ্রায় তারকা অধ্যুষিত এলাকায় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর কন্যা কান্তা আব্দুল্লাহর নামে প্রায় ৭০ কোটি রুপি মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তার অন্তত ১২টি ফ্ল্যাট ও বাড়ি রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা শামীম খান অভিযোগ করেন, ভোলা ও ঝালকাঠি ছাড়া বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। তার দাবি, অযোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ক্ষতি হয়েছে।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার যুবলীগ নেতা ফারুক আজাদও অভিযোগ করেন, অর্থ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক কাজ করতেন না আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। তার ভাষ্য, তৃণমূল নেতাকর্মীরা মামলা মোকাবিলায় অর্থকষ্টে থাকলেও তিনি বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।

বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ঋণের তথ্য উল্লেখ করেছিলেন। তার দাবি, দেশে ঋণ দেখিয়ে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০০২ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে অস্ত্র, দুর্নীতি ও আয়কর-সংক্রান্ত মোট ১০টি মামলার আসামি ছিলেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এবং পরবর্তীতে সেসব মামলা থেকে অব্যাহতি পান। তার দাবি, এসব মামলা পুনরায় চালু করে তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বরিশালের বিভিন্ন মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতাদের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।



banner close
banner close