শনিবার

১১ জুলাই, ২০২৬ ২৭ আষাঢ়, ১৪৩৩

দীর্ঘ হচ্ছে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের কারাজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬ ১১:২৫

শেয়ার

দীর্ঘ হচ্ছে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের কারাজীবন
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার হওয়া দলটির সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের (এমপি) অধিকাংশই এখনও কারাগারে রয়েছেন। গত দুই বছরে দায়ের হওয়া বিভিন্ন হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ায় তাদের কারাজীবন আরও দীর্ঘ হওয়ার আভাস মিলছে।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে আওয়ামী লীগের মোট ১০৭ জন সাবেক এমপি, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৩ জন সাবেক এমপি এবং ৩৪ জন সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এ পর্যন্ত মাত্র ১১ জন জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে ৭১ জনকে কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন ৪১ জন সাবেক এমপি এবং ৩০ জন সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। বাকিরা কাশিমপুরসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিচারও এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা করেছে। এসব রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিম্ন আদালতে বিচারাধীন শত শত মামলার মধ্যে ৪৩টি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে এবং সেগুলো চার্জ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে।

জামিন পাওয়া ১১ জনের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম, সাবেক পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ আরও কয়েকজন। তবে একই ধরনের মামলায় অনেকের জামিন না হওয়ায় তাদের আইনজীবীরা বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন।

বর্তমানে কারাগারে থাকা আলোচিত সাবেক মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন আনিসুল হক, রাশেদ খান মেনন, জুনাইদ আহমেদ পলক, আমির হোসেন আমু, কামরুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, ফরহাদ হোসেন, টিপু মুনশি, শাহজাহান খান, ডা. এনামুর রহমান, নূরুল ইসলাম সুজন, নুরুজ্জামান আহমেদ, দীপংকর তালুকদার ও আব্দুস শহীদসহ অনেকে। সাবেক এমপিদের মধ্যে রয়েছেন সালমান এফ রহমান, শামসুল হক টুকু, আবদুস সোবহান গোলাপ, হাজী সেলিম, ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন, আব্দুর রহমান বদি, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল জ্যাকবসহ আরও অনেকে। নারী বন্দিদের মধ্যে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি মুন্সীগঞ্জ কারাগারে এবং সাবেক এমপি মমতাজ বেগম, মাসুদা সিদ্দিক রোজী ও সাফিয়া খাতুন কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রয়েছেন।

গত দুই বছরে কারাগারে থাকা অবস্থায় সাবেক দুই মন্ত্রী মারা গেছেন। তারা হলেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এবং সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন।

আইনজীবীদের দাবি, অনেক আসামির বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মামলা থাকায় এবং নিম্ন আদালতে ধারাবাহিকভাবে জামিন আবেদন নাকচ হওয়ায় তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হচ্ছে। বেশ কয়েকটি মামলায় হাইকোর্টে জামিনের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। তাদের অভিযোগ, একই ধরনের মামলায় কেউ জামিন পেলেও অন্যরা পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য, জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত মামলাগুলো সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হচ্ছে এবং জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।

সাবেক জেলা জজ ও জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব মো. শাহজাহান সাজু বলেন, একই মামলার সব আসামির ভূমিকা সমান হয় না। কারও সম্পৃক্ততা, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য এবং অন্যান্য আইনগত বিষয় বিবেচনায় আদালত জামিনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তাই একই মামলায় একজন জামিন পেলেও অন্যজনের জামিন নাও হতে পারে।



banner close
banner close