শুক্রবার

১০ জুলাই, ২০২৬ ২৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

ধর্মকে হাতিয়ার করে সহিংসতা কাম্য নয়: চরমোনাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২০

শেয়ার

ধর্মকে হাতিয়ার করে সহিংসতা কাম্য নয়: চরমোনাই
ছবি সংগৃহীত

ধর্মকে ব্যবহার করে কোনো ধরনের সহিংসতা কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই)। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামপন্থি, আলেম ও মাদ্রাসাকে বিতর্কিত করতে দেশে নতুন করে জঙ্গিবাদের নাটক সৃষ্টি করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি’ শীর্ষক গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মসূচির আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ।

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান শুধু ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল না, বরং দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রকারীদের উৎখাতের আন্দোলনও ছিল। জনগণ দেশ রক্ষার জন্য জীবন ও রক্ত দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে বিপুল জনসমর্থন রয়েছে এবং নির্বাচনের আগে বিএনপিও তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, যারা দেশকে দখল ও বিভক্ত করার চিন্তা করে, তাদের বক্তব্যকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না। ভারতের কিছু নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী কয়েকটি দেশকে নিয়ে অখণ্ড ভারত গঠনের কথা বলা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে শায়খে চরমোনাই বলেন, মুসলমানদের বাড়িঘর, দোকানপাট, মসজিদ ও মাদ্রাসায় হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি ভারতের যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। এতে বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, সহকারী মহাসচিব কেএম আতিকুর রহমান, আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন, হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, মুফতি ফরিদুল ইসলাম, মুফতি মাছউদুর রহমান, প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, যুবনেতা ইলিয়াস হাসান, ছাত্রনেতা ইমরান হোসাইন নূর এবং মুফতি নিজামুদ্দিন।

মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সুশাসন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দূর করা। তিনি দাবি করেন, জুলাই সনদের বিষয়ে জনগণের সমর্থন রয়েছে এবং এর বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের হাইকমিশনারের একটি বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে পল্টন মোড়, বিজয়নগর পানির ট্যাংক হয়ে পুরানা পল্টন মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য ও মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।



banner close
banner close