মঙ্গলবার

৭ জুলাই, ২০২৬ ২৩ আষাঢ়, ১৪৩৩

সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ, মামলা দায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২২

শেয়ার

সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ, মামলা দায়ের
ছবি সংগৃহীত

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশস্থলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্য সচিব মো. সালামত উল্লাহ রনি বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার (৬ জুলাই) এনসিপির পূর্বঘোষিত জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যার পর সমাবেশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠেন।

এজাহার অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে ওঠার ৫ থেকে ১০ মিনিট আগে সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে সমাবেশস্থল অন্ধকার হয়ে পড়ে। পরে জেনারেটরের মাধ্যমে কয়েকটি বাতিতে আলোর ব্যবস্থা করা হলেও তা ছিল অপর্যাপ্ত। আয়োজকরা বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হননি। এ অবস্থায় কর্মসূচি চলতে থাকে।

এজাহারে বলা হয়েছে, নেতাদের বক্তব্য চলাকালে রাত ৯টা ৪২ মিনিটের দিকে মঞ্চের সামনে প্রায় ১০ থেকে ১৫ ফুট দূরে শ্রোতাদের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চারদিকে সাদা ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং সমাবেশস্থলে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ওই স্থানে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক এবং নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে, বিস্ফোরণে শাহিন খন্দকার (৩০), জসিম (২৬), শাহাদৎ হোসেন (৪০), ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপারসন মজনু (৪৫), এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার সাইফুল ইসলাম (২৫)সহ আরও অনেকে আহত হন। বিস্ফোরণের পর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। পরে সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করে মামলা করার উদ্দেশ্যে নেতাকর্মীরা সাভার মডেল থানার দিকে যান।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এনসিপির সমাবেশ নস্যাৎ করা, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটানো এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এ ঘটনার পেছনে কোনো নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সংঘবদ্ধ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও এজাহারে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, রাতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। তবে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।



banner close
banner close