শুক্রবার

৩ জুলাই, ২০২৬ ১৯ আষাঢ়, ১৪৩৩

আলেমদের বেলায় ডান্ডাবেড়ি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে নেই হাতকড়াও

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৮

শেয়ার

আলেমদের বেলায় ডান্ডাবেড়ি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে নেই হাতকড়াও
ছবি সংগৃহীত

স্বৈরাচারের দোসরদের হালচাল। হাতকড়া ছাড়াই আদালতে আওয়ামী লীগের ভিআইপি আসামিরা কারাগারে মিলছে আলাদা সুযোগ সুবিধা। দেখে কি মনে হচ্ছে কড়া পুলিশি পাহারায় কোথায় যাচ্ছে তারা না স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান আদালতে যাচ্ছে বেশ আয়েশি ভঙ্গিতেই। জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো মামলার আসামি হয়েও তাদের হাতে নেই হাতকড়া পর্যন্ত চোখেমুখে নেই কোনো অনুশোচনা বা শঙ্কা।

৫ আগস্টের ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের দায়িত্বে আসে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর শেখ হাসিনার দোসরদের যখন গ্রেপ্তার করা হয় শুরুর দিকে তাদের হেলমেট ও হাতকড়া পরিয়ে আদালতে আনা হলেও এখন বদলে গেছে দৃশ্যপট। আর কারাগারে তারা যেমন আয়েশি জীবনযাপন করছে তেমনই আদালতের প্রাঙ্গণেও তাদের আচরণ চরম উদ্ধত। প্রশাসন যেন তাদের অঘোষিত ছাড় দিয়ে যাচ্ছে।

এই অবস্থায় দম্ভের ষোলোকলা যেন পূর্ণ করলেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি তিনি। গত মঙ্গলবার দুপুরে হাজতখানা থেকে যখন তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২ এর এজলাসে থাকা কাঠগড়ায় তোলা হয় তখন তার মুখে ছিল চওড়া হাসি। শুধু তাই নয় এজলাসে তোলার সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তার হাত ধরতে গেলে চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে আঙুল উঁচিয়ে তাকে শাসাতে থাকেন ইনু।

ইনুর দম্ভ আর ভিআইপিদের এই রাজকীয় হালাত দেখে ফিরে তাকাতে হয় পেছনের দিনগুলোতে। হাসিনা আমলে আলেমদের প্রতি আচরণ কেমন ছিল। ২০২১ সালের এপ্রিলে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হককে নাশকতার মামলায় যখন সিএমএম আদালতে হাজির করা হয় তখন তার হাতে পরানো হয়েছিল হেলমেট ও হাতকড়া। আর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শিশু বক্তা হিসেবে পরিচিত মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় রীতিমতো ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া পরিয়ে আদালতে আনা হয়।

শুধু তাই নয় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রেও অতীত ছিল নির্মম। মানবতাবিরোধী অপরাধে দীর্ঘ কারাবাসের পর ২০২৩ সালের আগস্টে বিশ্বখ্যাত স্কলার ও জামায়াতের নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং ২০১৪ সালে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের মৃত্যুর পর তাদের পরিবার পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তোলে। এমনকি বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও কারাগারে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে দলটির।

অথচ আজকের ভিআইপি বন্দীরা পুলিশকে ধমক দিচ্ছেন আর পাচ্ছেন যেন জামাই আদর। কারাগারের ভেতরের চিত্র আরও চমকপ্রদ। জানা গেছে আওয়ামী লীগের ভিআইপি বন্দীরা বেশ আরাম আয়েশ আর খোশমেজাজেই আছে। যারা ডিভিশন পেয়েছে তারা জেল কোড অনুযায়ী খাট তোষক জাজিম চাদর একটি চেয়ার ও টেবিলের পাশাপাশি আলাদা শৌচাগার পাচ্ছে। সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে মিলছে টেলিভিশন এবং প্রতিদিন একটি বাংলা ও ইংরেজি সংবাদপত্র। পছন্দের খাবারের তালিকা দিয়ে আলাদা রান্না করার সুবিধাও পাচ্ছে তারা।

জেল কোডের বাইরেও বিশেষ ব্যবস্থায় বা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাসার খাবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করা ও খোশগল্প করার সুযোগও নিচ্ছে কেউ কেউ। আর তাদের ফাইফরমাশ খাটার জন্য দেয়া হয়েছে একজন করে কয়েদি। হাসিনা সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ১৩১ জন ভিআইপিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০৫ জনকে দেশের ১৫টি কারাগারে বিশেষ ডিভিশন দেয়া হয়েছে।

কারাগারে ভিআইপিদের মধ্যে রয়েছেন সালমান এফ রহমান তৌফিক ইলাহী আনিসুল হক ফারুক খান সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন হাসানুল হক ইনু দীপু মনি সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান গোলাম দস্তগীর গাজী টিপু মুনশিসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ আরো অনেকেই।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একই আইন তাহলে হাসিনা সরকারের আলেমদের বেলায় ডান্ডাবেড়ি আর পতিত স্বৈরাচারের ভিআইপিদের বেলায় রাজকীয় সুযোগ সুবিধা কেন।

প্রশাসনের এই দ্বৈতনীতি এবং আইনি ফাঁকফোকর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির সমালোচনা করেন।

মানবাধিকারের মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এসব আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সাথে মানবাধিকার লঙ্ঘন না হোক এমন চাওয়ার পাশাপাশি এসব অপরাধীরা যেন রাষ্ট্রের আচরণে প্রতিনিয়ত অনুভব করে তারা গণহত্যাকারী কিংবা সহযোগী সেই ব্যবস্থা ঠিক রাখার আকাঙ্খা সবার।



banner close
banner close