চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকনের বিরুদ্ধে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র অভিযোগ উঠেছে।
নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, খোকন চাঁদাবাজি, চোরাকারবারিদের পক্ষপাতিত্ব, দলীয় কোন্দল সৃষ্টি এবং অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির পক্ষ নিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। এতে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
হাসাদাহ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আমিনুর ইসলাম অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতির পদ দেওয়ার জন্য খোকন তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় তাঁকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, খোকন আওয়ামী লীগের এক সাবেক চেয়ারম্যানের পক্ষ নিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী এস কে লিটনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে খোকনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজীম খান ক্ষোভে বিএনপি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এছাড়া, নিজের পক্ষে দল ভারী করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেতা-কর্মীদের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার একটি সংবাদ প্রকাশের পর রায়পুর ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে নিজের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দিতে জোরালোভাবে বলেন খোকন।
মনোহারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক টিপু সুলতান বলেন, খোকন জীবননগর উপজেলা বিএনপিকে ধ্বংস করেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই নিজ দলের নেতা-কর্মীদেরও মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিচ্ছেন।
খোকনের বক্তব্য
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন খান খোকন বলেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে বিতর্কিত করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা নতুন স্বপ্ন দেখলেও খোকনের কর্মকাণ্ডে তা ভেস্তে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে খোকনের সম্পত্তির খোঁজ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এসব অভিযোগ জীবননগর উপজেলার স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন:








