জাতীয় সংসদে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর খরচ ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার দাবি উত্থাপন করায় একটি সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট-পরবর্তী মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে মালয়েশিয়ায় ৮৫ হাজার টাকা খরচে শ্রমিক পাঠানোর দাবি তোলার পর কিছু সিন্ডিকেট ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হুমকি দিচ্ছে। তবে জনগণের স্বার্থে কথা বলতে গিয়ে কোনো হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের ভোগান্তির বিষয়টি সংসদে তুলে ধরা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না করা সত্ত্বেও কিছু মহল কেন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় যাওয়া অনেক শ্রমিক প্রতারণার শিকার হন। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বৈধতা না থাকায় তারা নানা জটিলতায় পড়েন। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সোচ্চার থাকার ঘোষণা দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়েও বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের মুদি দোকানদারদের ওপর উৎসে বা অগ্রিম কর আরোপের প্রস্তাবের বিরোধিতা করা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অর্থবছরের সময়সূচি পরিবর্তনের প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের আবহাওয়া ও মৌসুমি বাস্তবতা বিবেচনায় অর্থবছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়া কমতে পারে এবং সরকারি অর্থের অপচয়ও হ্রাস পাবে।
সাইকেলের ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি একটি সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র শিল্পখাত। অতিরিক্ত কর আরোপ করা হলে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং রপ্তানি সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার নিয়ে সমালোচনার জবাবে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের আগে দলীয়ভাবে বিনা শুল্কে গাড়ি ক্রয় এবং সরকারি প্লট গ্রহণ না করার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তবে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসস্থান ব্যবহারকে তিনি সরকারি সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে এক করে দেখার বিরোধিতা করেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আজাদ, এস মাহমুদ জুবায়ের, শাহজাহান চৌধুরীসহ দলটির অন্যান্য নেতা ও সংসদ সদস্যরা।
আরও পড়ুন:








