রবিবার

২৮ জুন, ২০২৬ ১৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার অঙ্গীকার, বিচারকে প্রহসন বলে দাবি

বাংলা এডিশন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬ ১৯:১৭

শেয়ার

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার অঙ্গীকার, বিচারকে প্রহসন বলে দাবি
ছবি সংগৃহীত

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, সব ধরনের বাধা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তিনি চলতি বছরই দেশে ফিরবেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; বরং এটি বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তিনি দাবি করেন।

নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার অভিযোগ, এটি বিচার নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অসাংবিধানিক ও অবৈধ প্রক্রিয়ার ফল। বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ক্ষমতার জন্য নয়, বরং মানুষের কল্যাণ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যেই তিনি রাজনীতি করেন। মৃত্যুকে ভয় না পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতেও বহু ষড়যন্ত্র ও হত্যাচেষ্টা তিনি মোকাবিলা করেছেন।

দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার দাবি, আওয়ামী লীগ কেবল একটি রাজনৈতিক সংগঠন নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত একটি শক্তি। অতীতে বহুবার নিষিদ্ধ ও নির্যাতনের শিকার হলেও জনগণের সমর্থনে দলটি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দলের পুনরুত্থান অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যর্থতার ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং জনগণের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমান সরকারের সময় দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দল নিষিদ্ধ থাকা এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলার বিষয়ে শেখ হাসিনার দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে না এবং জনগণের সমর্থন থাকায় দলকে রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনার অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত এসেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান, স্মৃতিসৌধ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, দেশে উগ্রবাদের বিস্তার ঘটছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির কথাও তিনি তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, আওয়ামী লীগই আবার দেশকে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আদিবাসী, আহমদিয়া ও সুফি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনার দাবি, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী। সংখ্যালঘুরা ভোটব্যাংক নয়, সমান মর্যাদার নাগরিক বলে মন্তব্য করে তিনি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং হামলার ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

ভারতে অবস্থান প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগত জীবন অনেক আগেই দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও তার মন বাংলাদেশে পড়ে থাকে বলে জানান। বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জন সম্পূর্ণ নাকচ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না এবং গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার কোনো গোপন দরকষাকষির বিষয় নয়, এগুলো সাংবিধানিক অধিকার।



banner close
banner close