বৃহস্পতিবার

২৫ জুন, ২০২৬ ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩

সংবিধান সংশোধন বনাম সংস্কার: বিএনপি-জামায়াত দ্বিমত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬ ১১:০৬

শেয়ার

সংবিধান সংশোধন বনাম সংস্কার: বিএনপি-জামায়াত দ্বিমত
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করলেও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবিতে অটল রয়েছে। সরকারের মেয়াদের চার মাস অতিবাহিত হলেও সংবিধান পরিবর্তনের পদ্ধতি নিয়ে দুই দলের মধ্যে এই দ্বিমত নিরসন হয়নি। সরকার ইতোমধ্যে ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ সংশোধন কমিটি গঠন করলেও জামায়াত তাতে অন্তর্ভুক্ত হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সংস্কার আদেশ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দলের মধ্যে পদ্ধতিগত পার্থক্য প্রকট হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি বিদ্যমান সংবিধানের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত ও তাদের জোটসঙ্গীদের দাবি হচ্ছে গণভোটের রায় অনুযায়ী রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল সংস্কার। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। জামায়াত ও তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি পৃথক শপথ নিলেও বিএনপির সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে জানান যে, দ্বিতীয় শপথপত্রটি বিদ্যমান সংবিধানে না থাকায় তারা সেটি গ্রহণ করেননি। দলটির আরেক সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই সংবিধান সংশোধনের কথা বলে আসছে। জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ের ভিত্তিতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বিরোধী দলকেও বিষয়টি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বিভিন্ন সময়ে বিদ্যমান সংবিধানের আওতায় সংশোধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন যে, সরকারি দল গণরায়কে উপেক্ষা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামায় বিএনপি সংস্কারের পক্ষে স্বাক্ষর করলেও এখন তারা অবস্থান পরিবর্তন করেছে। জামায়াত চায় এক ব্যক্তির দুইবারের বেশি সরকার প্রধান না হওয়া, দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা। এসব দাবি আদায়ে তারা সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে এবং সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন মন্তব্য করেন যে, বিরোধী দলের এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করা। তিনি বিদ্যমান সংবিধানের ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের দাবি জানান। একইভাবে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ সংবিধান পুনর্লিখনের সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি চলমান সংকট নিরসনে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে সংসদের বাইরে থাকা অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

বর্তমানে ১৭ সদস্যের সংবিধান সংশোধন কমিটিতে ক্ষমতাসীন দলের ১২ জন সদস্য রয়েছেন এবং বিরোধী দলের জন্য ৫টি পদ রাখা হয়েছে। তবে জামায়াত এই কমিটিতে না থাকার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় সংবিধান পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।



banner close
banner close