সরকার ক্রমান্বয়ে একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
সরকার দেশের শিক্ষা, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে ‘নগ্ন দলীয়করণ’ করছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি নবগঠিত সংসদেও চরম বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এভাবে সরকার ক্রমান্বয়ে একদলীয় শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা জাতির জন্য চরম হতাশাজনক।’
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, ‘বর্তমানে সরকারি দলের লোকদের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দখলবাণিজ্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ঘুষ-দুর্নীতি চলছে অবাধে।’
সরকারি দলের ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দলে’ সাড়ে তিন মাসে তাঁদের শতাধিক নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক ছত্র ছায়ায় দেশে হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, যার ফলে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারের কিছু ভুল ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলে ধ্বংসপ্রায় ইসলামী ব্যাংক যখন মাত্র ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে সরকার ব্যাংকটিকে পুনরায় ফ্যাসিবাদের দোসরদের হাতে তুলে দেয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ তিনি মনে করেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিকে ‘সমূলে ধ্বংস’ করে দেবে।
বর্তমান সরকার চব্বিশের চেতনাকে ভুলিয়ে দেয়ার এক ‘আত্মঘাতী ও অপরিণামদর্শী’ অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে—মন্তব্য করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়ে পরবর্তীতে সেই গণভোটের রায়কে পদদলিত করে জাতির সঙ্গে এক প্রকার প্রতারণা শুরু করেছেন। এই সিদ্ধান্ত সরকারের জন্য বুমেরাং হবে।’
দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঞ্চালনায় সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের পুরুষ ও মহিলা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:








