জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম রুখে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিবাদ মিছিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে রিজভী জানান, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানোই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি অভিযোগ করেন, যারা অতীতে জনগণের স্বাভাবিক জীবন ও মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারা এখন পাচার করা অর্থ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
বিএনপির এই নেতা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের ম্যান্ডেটে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে এখন নানাভাবে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের জাল বোনা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে দমন-পীড়ন চালিয়েও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দমানো সম্ভব হয়নি।
বক্তব্যে তিনি ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম এবং সাইফুল ইসলাম হিরুসহ গুম হওয়া নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। দেশে পুনরায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি ফিরে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ এ ধরনের পরিস্থিতি আর কখনোই সমর্থন করবে না।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা প্রসঙ্গে রিজভী জানান, স্বাধীনতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো বিশেষ মহলের উসকানিমূলক ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশকে অন্য কোনো রাষ্ট্রের অনুগত বা গোলাম হতে দেওয়া হবে না।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে প্রতিদিন নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পতিত শক্তি অস্থিতিশীলতা তৈরির যে নীল নকশা করছে, তা জনগণের সহায়তায় নস্যাৎ করা হবে।
কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এবং মৎস্যজীবী দলের সাবেক সদস্য সচিব আব্দুর রহিমসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন:








