মঙ্গলবার

১৬ জুন, ২০২৬ ২ আষাঢ়, ১৪৩৩

আলিবাবার বিনিয়োগ বন্ধের গুঞ্জনে সংকটে দারাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬ ১৮:২২

শেয়ার

আলিবাবার বিনিয়োগ বন্ধের গুঞ্জনে সংকটে দারাজ
ছবি সংগৃহীত

চীনের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাজারে বিনিয়োগ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে চরম সংকটের মুখে পড়েছে দেশের একমাত্র শতভাগ বৈদেশিক বিনিয়োগের ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস দারাজ বাংলাদেশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বিটুবি (বিজনেস-টু-বিজনোস) খাতে বৈশ্বিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আলিবাবা এই কৌশলগত পরিবর্তন আনছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে আলিবাবা। তবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি মেটার মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্লাউড ও এআই সেবায় চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে এবং হংকংয়ে বড় অংকের বিনিয়োগে অবকাঠামো তৈরি করছে। খুচরা ই-কমার্স থেকে সরে এসে আলিবাবা এখন বাংলাদেশকে পণ্য সোর্সিং হাব হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এই ব্যবসায়িক পরিবর্তনের প্রভাবে দারাজ বাংলাদেশে বড় ধরনের ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ব্যয় কমাতে গত ঈদুল আজহার আগে দারাজ বাংলাদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। পাকিস্তান ও নেপালের প্রধান নির্বাহীদের সরিয়ে বাংলাদেশ অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী বেন কিয়ানকে ওই দুই বাজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কর্মরত স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মধ্যে ছাঁটাই আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া মে মাসে ব্যবস্থাপক ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়া থাকার পর তা সম্প্রতি পরিশোধ করা হলেও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এখনো অপরিশোধিত রয়েছে। ছাঁটাইকৃত কর্মীদের গ্র্যাচুইটি ও নোটিশ পিরিয়ডের পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগও উঠেছে।

আর্থিক সংকটের প্রভাবে দারাজ বাংলাদেশ তাদের ভৌত অবকাঠামোও সংকুচিত করছে। বনানী প্রধান কার্যালয়ের দুটি ফ্লোর ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি তেজগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাব ও সর্টিং সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যয় মেটাতে বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এবং গাজীপুরের কালিগঞ্জে থাকা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমি বিক্রির চেষ্টা চলছে। মার্চেন্টদের পাওনা বকেয়া থাকায় তারা পণ্য সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন এবং লজিস্টিকস কর্মীদের কর্মবিরতির ফলে পণ্য সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।

দারাজের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্রেক ইভেন বা লাভ-ক্ষতি সমান অবস্থায় পৌঁছানোর আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে স্বাবলম্বী হতে না পারলে আলিবাবা আর কোনো ভর্তুকি প্রদান করবে না। এমন পরিস্থিতিতে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ না করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হওয়া বা সম্পদ লিজ দেওয়ার মতো বিকল্প পথ খুঁজছে দারাজ।

সার্বিক বিষয়ে দারাজ বাংলাদেশের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার এ এইচ এম হাসিনুল কুদ্দুস দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, আলিবাবার বিনিয়োগ বন্ধের তথ্যটি ভিত্তিহীন। এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রতিষ্ঠান নিজেই গণমাধ্যমকে অবহিত করবে বলে দারাজ দাবি করেছে।



banner close
banner close