মঙ্গলবার

১৬ জুন, ২০২৬ ২ আষাঢ়, ১৪৩৩

রাউজানে যুবদল নেতা হত্যায় পাঁচ অস্ত্রধারী শনাক্ত, সবাই বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬ ১৬:৪৯

শেয়ার

রাউজানে যুবদল নেতা হত্যায় পাঁচ অস্ত্রধারী শনাক্ত, সবাই বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত
ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাউজানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচ অস্ত্রধারীকে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে রোববার রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কোনো মামলাও দায়ের হয়নি।

গত শনিবার দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হামলাকারীদের মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের কাছে শটগান ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনাক্ত হওয়া পাঁচ আসামি হলেন কদলপুরের মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার, রাউজান পৌরসভার ফরেস্ট অফিস এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফ, রাউজান সদর ইউনিয়নের পূর্ব রাউজানের মোহাম্মদ জাহেদ এবং মোহাম্মদ আবছার। ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইলিয়াস ও দিদারুল প্রথমে মাকসুদুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়ে।

রাঙ্গুনিয়া-রাউজান সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, শনাক্ত হওয়া পাঁচজন বিদেশে পলাতক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর সদস্য। তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয় এবং গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ভিডিও ফুটেজ ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের বিরুদ্ধে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানায় ১২টি হত্যাসহ মোট ২৪টি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী দামা ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ৫টি হত্যাসহ ১৮টি মামলা এবং ইউসুফের বিরুদ্ধে ২টি হত্যাসহ ৪টি মামলা রয়েছে। দিদার, জাহেদ ও আবছারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রায়হান এলাকায় রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের চৌধুরীর অনুগত হিসেবে পরিচিত এবং স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের চৌধুরী বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই এবং অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে গ্রেপ্তারে কোনো বাধা থাকার কথা নয়।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম বলেন, সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক আশ্রয়ে অপকর্ম করে থাকে এবং রাজনীতিবিদদের সচেতনভাবে সন্ত্রাসীদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাউজানের পূর্ব দিকের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাউজানের পাহাড়তলী, কদলপুর ও সদর ইউনিয়নে সংঘটিত অধিকাংশ সহিংসতায় পাহাড় থেকে আসা সন্ত্রাসীরা জড়িত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, কর্ণফুলী নদীর বালুমহাল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রিক বিরোধ এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। নিহত মাকসুদুল বেতাগী বাজার-সংলগ্ন চম্পাতলী ঘাট এবং বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলার ঘাট এলাকায় দুটি বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে জানা গেছে। বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, হত্যার তদন্তে এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা দরকার।

রোববার বিকেলে বেতাগী ইউনিয়নের চম্পাতলী ঈদগাহ মাঠে নিহত মাকসুদুল হকের জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরী জানান, প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি সংসদে তুলে ধরা হবে।

নিহতের বড় ভাই ও বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বলেন, হত্যার ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মামলা না হওয়া এবং আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহির উদ্দিন জানান, হত্যার মামলাটি রাউজান থানায় দায়ের হবে এবং তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।



banner close
banner close