কলেজের পাঠ্যসূচি থেকে ইসলামের ইতিহাস বিষয়টির পাঠদান বন্ধ করে তা চিড়িয়াখানায় পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর মুঠোফোনে কথোপকথনের একটি অডিও-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া ওই ফোনালাপে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক এই শিক্ষার্থীকে শিক্ষা কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষকে তিনি ইসলামের ইতিহাস ও মোগল আমলের ইতিহাস পড়ানো বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়গুলো কলেজে না রেখে আলাদা চিড়িয়াখানা তৈরি করে সেখানে স্থানান্তর করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে আগামী জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব উত্থাপন করবেন বলেও জানান।
এই ঘটনা এমন সময়ে আলোচনায় এল যখন মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় সংসদে নারী সদস্যদের পোশাক ও পর্দা বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ইতোমধ্যে সমালোচনার মুখে রয়েছেন। তাঁর ওই সংসদীয় বক্তব্যকে আপত্তিকর, অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (১৪ জুন) দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান পর্দা সম্পর্কে জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দাঁড়িয়ে এই মন্তব্য মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার শামিল। এ ছাড়া সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগেও তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
বিভিন্ন মহল থেকে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর এই বক্তব্যকে সংসদীয় রীতিনীতি ও সাংবিধানিক অধিকারের সীমা লঙ্ঘন এবং অমার্জনীয় আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই বিষয়ে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:








