শনিবার

১৩ জুন, ২০২৬ ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ঋণনির্ভর উচ্চাভিলাষী লুটপাটের বাজেট: জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬ ১৬:১৪

শেয়ার

ঋণনির্ভর উচ্চাভিলাষী লুটপাটের বাজেট: জামায়াত
ছবি সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে অধিক ঋণনির্ভর, উচ্চাভিলাষী, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের বাজেট আখ্যায়িত করে তা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিক্রিয়া জানান সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫৫তম এই বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয় সংকুলানে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু তা কীভাবে অর্জন করা হবে সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকার ঘাটতি পূরণের উৎসও অনির্দিষ্ট রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, এই বড় ঘাটতি বাজেটের ব্যয় সংকুলান মূলত ব্যাংক ঋণ থেকে করা হবে। এর ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ সংকুচিত হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হবে।

বাজেট বাস্তবায়নে তিনটি প্রধান বাধা চিহ্নিত করে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্য উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনীতির সব খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে কঠিন করে তুলবে।

বাজেটে নির্ধারিত ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একইভাবে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণও বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন।

ব্যক্তিগত করের ন্যূনতম হার ৫ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত করের বোঝা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করবে। পেট্রোলিয়াম, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভ্যাট বৃদ্ধি এবং তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামালে শুল্ক বৃদ্ধি রপ্তানি খাতকে হুমকিতে ফেলতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ৩ লাখ কোটি টাকায় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে এডিপির আকার বৃদ্ধি করলে দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

জামায়াতের ছায়া বাজেটের সঙ্গে তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার জানান, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যেখানে জামায়াতের ছায়া বাজেটের আকার ছিল ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা, যেখানে জামায়াতের প্রস্তাব ছিল ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। সরকারের বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩.৫ শতাংশ, আর জামায়াতের প্রস্তাবে তা ছিল ২.৪৩ শতাংশ।

করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমান ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে ধাপে ধাপে ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করে তিনি বলেন, অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ক্যালেন্ডার বছরভিত্তিক করার প্রস্তাবও ছায়া বাজেটে রাখা হয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রবণতা কমবে এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত হবে।

ব্যাংকিং খাতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয় এবং যাদের শেয়ার নেওয়া হয়েছে, তা ফেরত দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে গোটা অর্থনীতি সংকটে পড়বে।

বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৩০ জুন বাজেট পাস হওয়ার আগে সংসদে যথাযথ আলোচনা ও সংশোধনীর সুযোগ দিয়ে একটি বিনিয়োগবান্ধব, কর্মসংস্থানমুখী ও জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়ন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকারসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



banner close
banner close