শনিবার

১৩ জুন, ২০২৬ ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

পলাশবাড়ীতে পানহাটির দখল নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, এলাকায় আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬ ১৯:৩৮

শেয়ার

পলাশবাড়ীতে পানহাটির দখল নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, এলাকায় আতঙ্ক
ছবি সংগৃহীত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌর শহরের ছোটশিমুলতলা পানহাটি এলাকায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে পানহাটির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং একাধিক ককটেল বিস্ফোরণে পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দিকবিদিক ছুটে আশ্রয় নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সকাল থেকে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পানহাটি ও তৎসংলগ্ন এলাকায় জমায়েত হতে থাকেন। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, পলাশবাড়ি-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজন হাসুয়া ও বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় পানহাটি এলাকায় দুটি গাছ ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকটি পানের দোকানের ছাউনি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পলাশবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সারোয়ার আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পানহাটিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই পানহাটির নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে এবং এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

উল্লেখ্য, গত ২০ মে একই পানহাটির আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পৌর শাখার অফিস সম্পাদক সামিউল প্রতিপক্ষের ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে ৩০ মে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সামিউলের মৃত্যুর জন্য জামায়াত নেতাকর্মীরা বিএনপিকে দায়ী করলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই পলাশবাড়ি থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছে।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে ভবিষ্যতে পানহাটিকে কেন্দ্র করে আরও বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে।



banner close
banner close