বৃহস্পতিবার

১১ জুন, ২০২৬ ২৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬ ১৫:৩৭

আপডেট: ১১ জুন, ২০২৬ ১৫:৪৯

শেয়ার

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হুমকি, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড়
ছবি অভিযুক্ত দিপু তালুকদার

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সরকারি রাস্তা পাকাকরণ কাজে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় এনটিভি অনলাইনের টাঙ্গাইল (ঘাটাইল-ভূঞাপুর-গোপালপুর) প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসানকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত দিপু তালুকদার ভূঞাপুর পৌর বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক পদে দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন।

বুধবার (১০ জুন) অভিযুক্ত দিপু তালুকদার এনটিভির অনলাইন প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসানকে মুঠোফোনে কল করে এই হুমকি প্রদান করেন।

জানা গেছে, উপজেলার কাগমারিপাড়া এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) র অধিনে একটি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে মাহমুদুল হাসান ও তার সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে ভিডিওচিত্র ধারণ, স্থানীয়দের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং সরেজমিন অনুসন্ধানের মাধ্যমে নির্মাণকাজে নানা অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনিয়মের ভিডিও ছড়িয়ে পরলে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেল ৪টার দিকে মোবাইল ফোনে ঐ রাস্তা নির্মানের কাজ পাওয়া ঠিকাদার বিএনপি নেতা দিপু তালুকদার ক্ষুব্ধ হয়ে মাহমুদুল হাসানকে মুঠোফোনে কল করেন। সেই কল রেকর্ডে দিপু তালুকদার মাহমুদুল হাসানকে অশালিন ভাষায় গালাগাল দেন। তিনি রেগে গিয়ে বলেন, “তুই সাইটে গেছিস কেন? এটা কি তোর দায়িত্ব? আমি কিন্তু ইউএনও না, আমি থানার ইঞ্জিনিয়ারও না। আমি দীপু। বিষয়টা আমার দেখার আছে। আমি কিন্তু সরকার।

”এসময় তিনি সাংবাদিক মাহমুদুল হাসানকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয়রা বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা সাংবাদিকদের সাংবিধানিক ও পেশাগত দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া শুধু ব্যক্তি মাহমুদুল হাসানের ওপর আক্রমণ নয়, বরং স্বাধীন গণমাধ্যম ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপরও আঘাত।

স্থানীয় সাংবাদিকরা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের হুমকি বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।



banner close
banner close