জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে রায় অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বুধবার উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে আদালত এ আদেশ দেন। ফলে যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষিত হতে পারে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী প্রকাশ্যে বলেন, তাদের নেতা হানিফের নির্দেশ রয়েছে যেকোনোভাবে আন্দোলন দমন করতে হবে। এই বক্তব্যকে হানিফের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গত ১১ মে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রসিকিউশনের বক্তব্য শুরু করেন। পরদিন ১২ মে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ আদালতে বলেন, আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক ভূমিকার ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং এসব ঘটনা পরিকল্পিত ও সমন্বিত হামলার অংশ। বুধবার রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। হানিফ ছাড়া অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চারজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
চার আসামির বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথমত, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সভায় উপস্থিত থেকে আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগকে ব্যবহারের বক্তব্যে সমর্থন দেওয়া। দ্বিতীয়ত, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় সভা করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া। তৃতীয়ত, কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যায় সম্পৃক্ততা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের হলে গত বছরের ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
আরও পড়ুন:








