সোমবার

৮ জুন, ২০২৬ ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি নেতাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬ ১৬:২৪

শেয়ার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি নেতাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা
ছবি সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভারতীয় চোরাইপণ্যবাহী গাড়ি আটককে কেন্দ্র করে বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতাসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) বিকেলে সুলতানপুর ৬০ বিজিবির অধীনে সালদা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. মাসুদ বাদী হয়ে কসবা থানায় এ মামলা করেন।

মামলায় বায়েক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, বায়েক ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি স্বপন মিয়া এবং বিএনপি নেতা হুমায়ুন মিয়াসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের নয়নপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় চোরাইপণ্য বহনকারী একটি পিকআপ আটক করেন বিজিবি। পিকআপটিতে বাসমতি চালসহ বিভিন্ন চোরাইপণ্য ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জব্দ প্রক্রিয়ার সময় অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিজিবি সদস্যদের কাজে বাধা দেয় এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা লাঠি, রড, দা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে বিজিবির কয়েকজন সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে দিদার হোসেন, ফেরদৌস, তারেক ও মোস্তাফিজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। আহতদের উদ্ধার করে সুলতানপুর বর্ডার গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের পরিচয় যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে সময় লাগায় মামলা দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

মামলার বাদী সালদা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. মাসুদ বলেন, ঘটনার পর অনুসন্ধান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা চোরাকারবারির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে কসবা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নূরুল আমিন বলেন, নয়নপুর এলাকায় ভারতীয় চোরাইপণ্য আটককে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, মামলায় বিএনপির স্থানীয় নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বায়েক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান।

তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেককে বাদ দিয়ে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।



banner close
banner close