আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ পরলোকগমন করেছেন। সোমবার বিকেলে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা দেশত্যাগ করলেও বার্ধক্যের কারণে তোফায়েল আহমেদ দেশেই অবস্থান করছিলেন।
তার প্রয়াণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং বিশেষ করে সত্তরের দশকে জাতীয় রক্ষীবাহিনীর নীতিপ্রণেতা হিসেবে তার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসী লেখক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পৃথক বার্তায় তোফায়েল আহমেদের সময়ে রক্ষীবাহিনীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও সেই সময়ের নানা ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, তৎকালীন রক্ষীবাহিনীর অন্যতম নীতিনির্ধারক হিসেবে বহু মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পেছনে তার ভূমিকা ছিল। এছাড়া রাকসুর সাবেক জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার রক্ষীবাহিনীর হাতে নিহতের সংখ্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট দাবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
তোফায়েল আহমেদের জীবদ্দশায় বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে নিয়ে করা বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য এবং মুক্তিযুদ্ধ ও তৎকালীন রাজনীতি নিয়ে তার দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়েও জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। সমর্থকদের কেউ কেউ তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করলেও সমালোচকরা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের বিতর্কিত দিকগুলো সামনে আনছেন।
এদিকে তোফায়েল আহমেদের জানাজা ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে ভোলার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজাস্থলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এছাড়া ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় এবং চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের অনুসারীদের কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মৃত্যুকে ইস্যু করে একটি গোষ্ঠী নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী ছাত্রনেতা আব্দুল মালেক হত্যাকাণ্ডসহ রক্ষীবাহিনীর শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের বিচার দাবি করেছেন। সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যারা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চাইছে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে রক্ষীবাহিনীর আমলে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিটি বর্তমানে জোরালো হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন:








