সোমবার

২৫ মে, ২০২৬ ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

রূপনগরে জাগৃকের জমি দখলে বিএনপি-আওয়ামী লীগ একজোট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬ ১৮:৪২

শেয়ার

রূপনগরে জাগৃকের জমি দখলে বিএনপি-আওয়ামী লীগ একজোট
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর এলাকায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) শতকোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি দখলে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। গত ৯ মে সকালে স্থানীয় বিএনপি এবং কার্যক্রম-নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একযোগে এই দখল অভিযান পরিচালনা করেন। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঘটনার বিবরণ

রূপনগরের দুয়ারীপাড়া সেকশন-৮-এর ক ও খ ব্লকের ওই সরকারি জমিতে গত ৯ মে সকাল ১০টার দিকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল প্রবেশ করে। রোড নম্বর ১ থেকে ৫-এর পূর্বদিকের ৪০ ফুট প্রস্থের সরকারি রাস্তাসহ পুরো জায়গাটি লোহার পাইপ, অ্যাঙ্গেল ও শিট ওয়েল্ডিং করে এবং টিন ও শিটের বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। জাগৃকের কর্মকর্তারা বারবার নিষেধ করলেও দখলকারীরা তাতে কর্ণপাত করেননি।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা

জাগৃকের ঢাকা উপবিভাগ-১-এর উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান রূপনগর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তারা হলেন: মোবারক হোসেন মেম্বার, শিপু মোল্লা, আমজাদ হোসেন মোল্লা, জাকির হোসেন শান্ত, মো. সিয়াব উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (নজু), নাসির ওরফে ফার্নিচার নাসির, দুলাল, মো. আক্তার হোসেন, মো. স্বপন, আইজল, আরিফ, মো. রাজু (চান্দি রাজু), সুমন ও মো. সোহেল। অভিযোগে বলা হয়েছে, মোবারক হোসেন মেম্বার ও মো. রাজু কার্যক্রম-নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা এবং বাকিরা স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে যুক্ত।

প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস

জাগৃকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জমিটি ৫/৭২-৭৩ এল.এ. কেসের আওতায় অধিগ্রহণ করা হয় এবং ১৯৯০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে সেখানে ৪৭৪টি প্লট সৃজন করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বরাদ্দ দেওয়া হলেও অবৈধ দখলের কারণে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।

২০১৯ সালে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে প্লট-মালিকদের পর্যায়ক্রমে প্রকৃত দখল হস্তান্তর শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উচ্ছেদ হওয়া দখলদাররা পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং সড়কের শুরু ও শেষ প্রান্তে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। এ বিষয়ে জাগৃক গত বছরের ৫ জানুয়ারি একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিও ইস্যু করেছিল।

চাঁদাবাজির অভিযোগ

জমি দখলের পাশাপাশি এই চক্রের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগও পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, নির্মাণাধীন বাড়িতে গিয়ে ভাড়াটেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং নতুন নির্মাণকাজ শুরু হলে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।

প্রশাসনের ভূমিকা

জাগৃক রূপনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে সরকারি জমি রক্ষায় অবৈধ দখল বন্ধ, দখলকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশি টহল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নোমান হোসেন সরাসরি কথা না বলে অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পরে তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। জাগৃকের উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।



banner close
banner close