রবিবার

২৪ মে, ২০২৬ ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জে আ. লীগ ও যুবদলের বহিষ্কৃত দুই নেতা পেলেন জামায়াতের মনোনয়ন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬ ১৯:৩৪

শেয়ার

সিরাজগঞ্জে আ. লীগ ও যুবদলের বহিষ্কৃত দুই নেতা পেলেন জামায়াতের মনোনয়ন
ছবি সংগৃহীত

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টিতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও যুবদল থেকে বহিষ্কৃত দুই নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বাঙ্গালা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ এবং বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নে মনোনয়ন পেয়েছেন যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা সাদ্দাম হোসেন।

গত ২৩ মে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর এক সভায় উল্লাপাড়া উপজেলা, ১২টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সভায় সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

সভা শুরুর আগে আবু হানিফ ও সাদ্দাম হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। পরে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার সময় বাঙ্গালা ও বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আবু হানিফ দীর্ঘদিন বাঙ্গালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

অন্যদিকে, সাদ্দাম হোসেন বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে উপজেলা যুবদল তাকে বহিষ্কার করে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

এ ছাড়া উধুনিয়া ইউনিয়নে প্রিন্সিপাল মঞ্জিল ইসলাম এবং হাটিকুমরুল ইউনিয়নে সলঙ্গা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সখ্যের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও মন্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা চলছে।

আবু হানিফ বলেন, তিনি পূর্বে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন এবং পরে দল তাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিয়েছে।

বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন বলেন, সাদ্দাম হোসেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খানের পক্ষে কাজ করেছিলেন। এ কারণে উপজেলা যুবদল তাকে বহিষ্কার করে।

উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলী বলেন, আবু হানিফ ও সাদ্দাম হোসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগদানের পর তাদের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের নতুন রাজনৈতিক দলে অন্তর্ভুক্তি ও মনোনয়ন প্রদান স্থানীয় নির্বাচনের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভেদ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।



banner close
banner close