ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ পৃথক মামলা দায়ের করেছে। শুক্রবার রাতে এনসিপির পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর শনিবার পাল্টা মামলা করেছে ছাত্রদল।
শনিবার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মো. এনামুল কবির বাদী হয়ে এনসিপির ২২ জন নেতার বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার দুপুরে বাদী এনামুল কবির ঝিনাইদহ পৌরসভার পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে বেলা ১টা ৫০ মিনিটে মসজিদ থেকে বের হলে দেখতে পান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সেখানে জেলা শাখার নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। এজাহারে আরও বলা হয়, বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করা হয় এবং এতে প্রধান আসামি তারেক রেজা উসকানি দেন। বাদী ও উপস্থিত মুসল্লিরা এর প্রতিবাদ জানালে আসামিরা ছাত্রদল নেতাদের ওপর হামলা চালান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, হামলায় আসামি তানাঈম বাদীকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তাঁর কপাল ফেটে গুরুতর জখম হয়। আহতদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হৃদয় হোসেন ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি নয়ন হাওলাদারসহ আরও কয়েকজনকে পিস্তলের বাঁট, ধারালো দা ও ইট দিয়ে আঘাত করা হয়।
এর আগে শুক্রবার রাতে একই ঘটনায় এনসিপি নেতা তারেক রেজা বাদী হয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১১০ থেকে ১১৫ জনের বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন।
মূল ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার দুপুরে, যখন জুমার নামাজ শেষে পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে তিনজন আহত হন। ঘটনার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেন এবং মামলা দায়েরের পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশি পাহারায় ঝিনাইদহ ত্যাগ করেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন:








