শনিবার

২৩ মে, ২০২৬ ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ব্যাংকব্যবস্থা পুনর্গঠন ছেড়ে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত সরকার: গোলাম পরওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬ ১৮:১১

শেয়ার

ব্যাংকব্যবস্থা পুনর্গঠন ছেড়ে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত সরকার: গোলাম পরওয়ার
ছবি সংগৃহীত

দেশের ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনের পরিবর্তে সরকার নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত বলে অভিযোগ করেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। শনিবার (২৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ব্যাংকিং খাত। অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য একটি সুষ্ঠু ও কার্যকর ব্যাংকব্যবস্থা অপরিহার্য। কিন্তু অতীতে লুটপাটের শিকার হওয়া ব্যাংকগুলো পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ না দিয়ে সরকার নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ ব্যাংক বর্তমানে কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় একীভূত করা হলেও গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে পারছে না। অনেক ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং তীব্র তারল্য সংকটে ভুগছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণের পরিমাণও ক্রমাগত বাড়ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসলামী ধারার পাঁচটি ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম গভর্নরের অযোগ্যতা ও সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে ব্যাহত হয়েছে। এতে আমানতকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তার দাবি, সংকট সমাধানের পরিবর্তে সরকার কয়েকটি ব্যাংকে নিজেদের লোক নিয়োগ দিয়ে আর্থিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি করছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-কে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে এবং ব্যাংকটির বৈধ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) অপসারণে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের এমডি অপসারণে সরকারি হস্তক্ষেপের নিন্দাও জানান তিনি।

গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, অযোগ্য ব্যক্তিদের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করে সফল একটি ব্যাংককে স্থবির করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর ফলে বিনিয়োগ কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। এতে কোটি কোটি আমানতকারী এবং লাখ লাখ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, দেশের মোট রেমিট্যান্স আহরণের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশ ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে ব্যাংকটি ঝুঁকিতে পড়লে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তার মতে, ইসলামী ব্যাংকিং খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাই সংকটে পড়বে।

বিবৃতিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অবিলম্বে বর্তমান গভর্নরকে অপসারণ করে দেশি-বিদেশি মহলে গ্রহণযোগ্য এবং আর্থিক খাতে দক্ষ কোনো পেশাদার ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে পুনর্বহাল, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং ব্যাংকিং খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানান তিনি।

এছাড়া ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের আওতায় এনে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়।

বিবৃতির শেষাংশে গোলাম পরওয়ার বলেন, অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশের আর্থিক খাতে যে নেতিবাচক অভিঘাত সৃষ্টি হবে, তা মোকাবিলা করা সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি সরকারকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে সরে এসে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।



banner close
banner close