আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার বিকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সামনে ‘শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা ও সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে’ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ আহ্বান জানান দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, আজ দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই। শিশু রামিসার হত্যাকাণ্ড জাতির জন্য লজ্জার। দ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে হত্যাকারীর ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করতে হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি দলের নেতা-কর্মীদের যৌন লালসায় নারী-শিশুর জীবন হুমকির মুখোমুখি। এই ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত এমনকি বিএনপি দলীয়ভাবেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় থাকলে সামাজিক অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
শিশু রামিশা হত্যা মানবতার নিকৃষ্ট একটি উদাহরণ উল্লেখ করে জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, রামিশা হত্যায় পুরো জাতি ব্যথিত হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন ব্যথিত নন! আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি চেয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা ব্যর্থতা স্বীকার করে পদত্যাগ করলেও আমাদের মন্ত্রীরা দায় চাপানোর রাজনীতি করে। জামায়াত মব বা দায় চাপানোর রাজনীতি করে না।
সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, রামিশা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নিকৃষ্ট অসভ্যতার উদাহরণ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ৩ মাসের মধ্যে লোমহর্ষক অনেক ঘটনা ঘটলেও সরকার আইনশৃঙ্খলার উন্নতির জন্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যার ফলে নারী-শিশু নিপীড়ন প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে।
নারী-শিশু নিপীড়নের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি জনগণ মেনে নেবে না। প্রতিটি হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা সরাসরি জড়িত। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে তিনি আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেইট থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট-পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে বিজয়নগর মোড়ে এসে শেষ হয়। মিছিলে সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন:



.jpg)




