মঙ্গলবার

১৯ মে, ২০২৬ ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

‘স্বপ্নের সেতু’ পরিদর্শনে গিয়ে অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী, বাউফলে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৬ ১৬:০৫

শেয়ার

‘স্বপ্নের সেতু’ পরিদর্শনে গিয়ে অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী, বাউফলে উত্তেজনা
ছবি সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বাউফলে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে গিয়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের উত্তেজনার মুখে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর ১টার দিকে সেতুমন্ত্রী বাউফলের বগা ফেরিঘাটে পৌঁছান। সেখান থেকে লোহালিয়া নদীর পূর্বপাড়ে আয়োজিত এক সভায় যোগ দিতে ফেরিতে ওঠেন। সভার আয়োজন করেন বাউফল আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মন্ত্রী পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর পর বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। একপর্যায়ে বিভিন্ন দিক থেকে সেতুমন্ত্রীর গাড়িবহর ঘিরে ফেলে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়।

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে সেতুমন্ত্রী একই ফেরিতে পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান। পরে গাড়িবহর নিয়ে তিনি পটুয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতারা। এছাড়া সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

স্থানীয়দের দাবি, জামায়াত আয়োজিত সভায় সেতুমন্ত্রীকে অংশ নিতে না দিতেই পরিকল্পিতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ঘটনাস্থলে বাউফলের বিএনপির পরাজিত এমপি প্রার্থী শহীদুল আলম তালুকদারসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতারাও প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ জানান, সভাস্থলের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সেতুমন্ত্রীকে অবরুদ্ধ করেন।

উল্লেখ্য, বাউফলের লোহালিয়া নদীতে বাংলাদেশ-চীন নবম মৈত্রী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল আগের সরকারের আমলে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পটির অগ্রগতি থমকে যায়। পরে জাতীয় সংসদে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সেতুমন্ত্রীকে বাউফল সফরের আমন্ত্রণ জানান এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

এ ঘটনার পর প্রস্তাবিত ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।



banner close
banner close