ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পেছনে মতপার্থক্য ও একক সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, নতুন দলকে জোটে অন্তর্ভুক্তি, আসন বণ্টন, বিদেশি পক্ষের সঙ্গে বৈঠক এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত বিষয়ে মতবিরোধের কারণে সমঝোতা টেকেনি।
সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দলটি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, সমঝোতায় নতুন দলকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের আসন বণ্টনের বিষয়ে আগে থেকে থাকা শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠক করা এবং ইসলাম অনুযায়ী দেশ পরিচালনার পরিবর্তে বিদ্যমান আইনে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করাও মতানৈক্যের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে উগ্রবাদী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এসব ঘটনার পরও সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।
রেজাউল করীম বলেন, তারা শুধুমাত্র সংসদ সদস্য বা মন্ত্রিত্বের জন্য রাজনীতি করেন না। ইসলাম, দেশ, জাতি ও মানবতার প্রশ্নে তাদের অবস্থান অটল থাকবে। ভবিষ্যতে একই ভিত্তিতে রাজনৈতিক জোট হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সনদ বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার প্রতি তারা আস্থা রাখতে চান।
মতবিনিময় সভায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির সমালোচনাও করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তিনি এ ধরনের চুক্তিকে দেশের স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান।
পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। সেখানে বিজেপির কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং দেশটিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।
আরও পড়ুন:








