হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ১১নং বাঘাসুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহাবুদ্দিন আহমেদ জারুর বিরুদ্ধে চুরি, ভাঙচুর ও মারামারির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন হবিগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী লীগের আহ্বায়ক সৈয়দ মোহাম্মদ জুয়েল। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, শাহাবুদ্দিন আহমেদ জারু মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের ৪ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতা। রাজনৈতিক মামলার কারণে বর্তমানে তিনি এলাকা ছাড়া রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য রিনা আক্তার।
মামলার বাদী সৈয়দ মোহাম্মদ জুয়েল জানান, গত ২৯ এপ্রিল শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর এলাকায় অবস্থিত তার মালিকানাধীন শাহজালাল ফিলিং স্টেশনে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুর চালিয়ে নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় গত ১১ মে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় শাহাবুদ্দিন আহমেদ জারুসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাদী সৈয়দ মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সে আমার অনেক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে এলাকায় অশান্তি বাড়তে পারে।
তবে অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি রাজনৈতিক মামলার কারণে এলাকা ছেড়েছেন। বিষয়টি না জেনে মন্তব্য করা ঠিক নয়।
উল্লেখ্য, অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত-উভয়েই বৈষম্যবিরোধী জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি। তাদের মধ্যে একজন বর্তমানে পলাতক এবং অপরজন জামিনে রয়েছেন।
আরও পড়ুন:








