স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সরকার নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত না করা, গুম-খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি।
শনিবার বিকেলে রাজশাহী আলিয়া মাদরাসা মাঠ-এ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি সরকার বাস্তবায়ন করেনি। গুম-খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংস্কৃতি বন্ধে স্বাধীন কমিশন গঠনের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সরকার উল্টো বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারাই বলেছিলেন দেশকে মেরামত করতে হবে, সংবিধানের সংস্কার করতে হবে। এখন বলছেন সংস্কার কী জিনিস তা বুঝেন না। তাহলে কি না বুঝেই দিয়েছিলেন এসব প্রতিশ্রুতি?”
ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শক্তিকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। জনগণের দেওয়া গণরায়ের বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন সংসদ থেকে রাজপথে ছড়িয়ে পড়বে। জনগণের রায় অগ্রাহ্য করলে অতীতের স্বৈরশাসকদের মতো বর্তমান সরকারেরও পতন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, দেশে এখন “চাঁদাবাজির মহাউৎসব” চলছে। এসবের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অযোগ্য ও দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার কারণে শিক্ষা ও প্রশাসন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে তিস্তা ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়েও বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধ-এর কারণে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয় এবং বর্ষায় ভয়াবহ দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। দ্রুত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও উত্তরাঞ্চল পরিচালক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এতে আরও বক্তব্য দেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সারজিস আলম, আল্লামা জালালুদ্দিন আহমদ, আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, অধ্যাপক সিরাজুল হক, নুরুল ইসলাম বুলবুল, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং মনিরা শারমিন।
আরও পড়ুন:








