সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও বড় ধরনের রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমান মন্ত্রিসভায় আরও ৭ থেকে ৮ জন নতুন সদস্য যুক্ত হতে পারেন। প্রবীণ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী পর্যায়ে নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায়ও দু-একজনকে নেওয়ার চিন্তা রয়েছে। এছাড়া আরও দুজন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনা হচ্ছে।
সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্র পরিচালনায় গতিশীলতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের সমন্বয় জোরদার এবং জনগণের সেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্যেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোরবানির ঈদের আগে বা পরে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনায় মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “মন্ত্রিসভার বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।”
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সম্ভাব্য কয়েকজনের বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে। তার ভাষ্য, কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে চাপ থাকায় নতুন সদস্য যুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে। কাউকে কাউকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া এবং আটজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস ছিল সম্ভাব্য পুনর্গঠনের প্রাথমিক ইঙ্গিত।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। উপমন্ত্রীর কোনো পদ নেই। বিএনপি সরকারের ২০০১ সালের মন্ত্রিসভায় ২৮ জন মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও ৪ জন উপমন্ত্রী ছিলেন। পরে সেই মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বেড়ে ৬০ জনে পৌঁছায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে অর্থ ও পরিকল্পনা, বাণিজ্য-শিল্প-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য-খাদ্য, শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা, সড়ক পরিবহন-রেল-নৌপরিবহনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর অধীনে রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে চাপ বাড়ছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। এ কারণে এসব খাতে আলাদা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সংসদ সদস্যের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং বেগম সেলিমা রহমান। ২০০১ সালের বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় তারা দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এছাড়া সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বরকত উল্লাহ বুলু, জয়নুল আবদিন ফারুক, নজরুল ইসলাম আজাদ, আশরাফ উদ্দিন বকুল, ডা. মো. আনোয়ারুল হক, আলী আজগর লবী, সেলিমুজ্জামান সেলিম এবং শহীদুল ইসলাম বাবুল।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকেও মূল্যায়নের আওতায় আনা হতে পারে বলে রাজনৈতিক সূত্রে আলোচনা রয়েছে। ইতোমধ্যে নুরুল হক নুরু, ববি হাজ্জাজ এবং জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে শাহাদাত হোসেন সেলিম ও আন্দালিভ রহমান পার্থ-এর নামও আলোচনায় রয়েছে।
টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী-এর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল-এর নামও আলোচনায় রয়েছে।
আরও পড়ুন:








