বৃহস্পতিবার

১৪ মে, ২০২৬ ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩

সিটি নির্বাচনে ১২ সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করছে জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৬ ১৮:৪৭

শেয়ার

সিটি নির্বাচনে ১২ সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করছে জামায়াত
ছবি সংগৃহীত

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে এককভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের জন্য সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় তরুণ নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দলটির নেতারা জানিয়েছেন, আগামীকাল শুক্রবার জামায়াতের আমির রংপুর সফরে যাচ্ছেন। এই সফরের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হবে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের আশা, রংপুর সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর নামও সফরকালে ঘোষণা করা হতে পারে।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাই করতে চায় জামায়াত। এ কারণে সিটি করপোরেশনগুলোতে দলীয় প্রতীকে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে দলটি।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য, অতীতে শুধু রুকনদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও এখন সে অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে কর্মী-সমর্থক এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় নির্বাচনেও তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় মুখকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার কৌশল নিয়েছে দলটি। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা ছাত্রনেতাদের স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই প্রায় শেষ। তিনি বলেন, “অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দিয়েই প্রার্থী নির্ধারণ করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে জোটসঙ্গীদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে, তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল এককভাবেই এগোতে চায়।”

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় শাখাগুলো থেকে তিন সদস্যের প্যানেল পাঠানো হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে কয়েকটি সিটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করতে বলা হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে মহানগর জামায়াতের আমির আবদুল জব্বার, গাজীপুরে সাবেক ছাত্রশিবির নেতা হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রামে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী এবং রংপুরে মহানগর আমির এ টি এম আজম খান-এর নাম আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া সিলেটে মাওলানা হাবিবুর রহমান, কুমিল্লায় দ্বীন মুহাম্মদ, ঢাকা উত্তরে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাদিক-এর নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণে জোটের পক্ষ থেকে এনসিপির একজন নেতাকে সমর্থনের প্রস্তাব এলেও জামায়াতের অভ্যন্তরে তা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। নেতাদের একটি অংশ মনে করছে, বিতর্কিত কোনো ইস্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সমর্থন দিলে রাজনৈতিক দায় দলটির ওপর পড়তে পারে।

এদিকে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সারা দেশকে ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করেছে জামায়াত। অঞ্চলভিত্তিক নেতারা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করছেন। দলীয় নেতাদের দাবি, অর্ধেকের বেশি ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা পরিষদ এলাকায় ইতোমধ্যে প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে দলটি। জামায়াতের দাবি, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বদলে প্রশাসকদের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার পরিচালনা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।



banner close
banner close