শনিবার

৯ মে, ২০২৬ ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

আমাকে জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার প্রোডাক্ট বলা হয়েছিল: তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ মে, ২০২৬ ০৮:৪৩

শেয়ার

আমাকে জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার প্রোডাক্ট বলা হয়েছিল: তাসনিম জারা
ছবি সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা বলেছেন, একসময় তাকে “জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার প্রোডাক্ট” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ ও রাজনৈতিক ট্যাগিংয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের চর্চা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

শুক্রবার (৮ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পোস্টে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি-র পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তোলেন।

তাসনিম জারা উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনের সময় “একটা একটা শিবির ধর, ধরে ধরে জবাই কর” স্লোগানের প্রতিবাদ করায় তখনকার আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সমর্থকদের একটি অংশ তাকে “শিবিরপন্থি” আখ্যা দিয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তাকে “লেঞ্জা ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট টু হাইড” বলে কটাক্ষ করা হয় এবং “ক্রসফায়ারে” দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, বর্তমানে আবারও একই ধরনের ভাষা ও ট্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছেন। তবে এবার যারা তাকে “শাহবাগী”, “বাম”, “ইসলামবিদ্বেষী” বা “বিদেশি এজেন্ট” বলছেন, তাদের অনেকেই অতীতে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার ছিলেন।

ইমির প্রসঙ্গ টেনে তাসনিম জারা বলেন, অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখা হলে যে কারও জন্য ন্যায়বিচারের দাবি তোলা উচিত। তিনি দাবি করেন, ইমি জেলে থাকায় মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি এবং তার এক বছরের একাডেমিক জীবন পিছিয়ে গেছে।

পোস্টে তিনি “পোস্ট-আইডিওলজিক্যাল” রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, অভ্যুত্থানের পর এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যেখানে মতপার্থক্য থাকলেও মানুষকে সম্মান করা হবে এবং ট্যাগিংয়ের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে।

তাসনিম জারা আরও বলেন, “মধ্যপন্থা মানে নীতিহীনতা নয়। মানুষকে তার পরিচয়ের বাক্সে বন্দি না করে তার যুক্তি ও কাজ দিয়ে বিচার করতে হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্বিমতকে “দেশদ্রোহ”, “নাস্তিকতা” বা “বিদেশি এজেন্ট” আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যা অতীতের “ফ্যাসিবাদী” রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি।

পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, “সভ্য সমাজে কাউকে জবাই করার ডাক দেওয়া যায় না, কাউকে বিনা বিচারে আটকে রাখা যায় না, এবং দ্বিমতকে দেশদ্রোহ বলে চালিয়ে দেওয়া যায় না।”



banner close
banner close