কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে আন্তঃবিভাগ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে গিয়ে বিক্ষোভ ও হট্টগোলের মুখে পড়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ সময় তাকে প্রায় আধা ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তবে পুলিশ ও কলেজ প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও কলেজ সূত্র জানায়, প্রধান অতিথি হিসেবে টুর্নামেন্ট উদ্বোধনে কলেজ মাঠে উপস্থিত হন মুফতি আমির হামজা। এ সময় ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী মঞ্চের সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে। মাঠসংলগ্ন সড়কের চারা গাছ কাটার প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভও করে।
একপর্যায়ে এমপি মাঠে প্রবেশ করলে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকে এবং মাঠের মধ্যেই অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কলেজের অধ্যক্ষ মোল্লা মো. রুহুল আমীন তাকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে আমির হামজা অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের হয়ে কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
এদিকে সংসদ সদস্য আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করা হয়, কলেজ পরিদর্শনকালে তাকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে রাখে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে এ আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তবে গত সোমবার রাতে মাঠসংলগ্ন কিছু চারা গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন এবং নৈশপ্রহরীদের শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বহিরাগতদের এনে একটি পক্ষ কলেজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বসে মুফতি আমির হামজা সাংবাদিকদের বলেন, “আজকের ঘটনা দুঃখজনক। পরিকল্পিতভাবে আমাকে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে উপরমহলে অভিযোগ করব।” তিনি গাছ কাটার ঘটনার বিচারও হবে বলে জানান।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তিনি জানান, আমির হামজাকে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপরত অবস্থায় দেখা গেছে এবং পরে তিনি পুলিশের সঙ্গেই ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। তবে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গাছ কাটার প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ও তালিকা করার কথা বলায় তারা ক্ষুব্ধ হন। এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিস্ট আমলের মতো তালিকা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।”
কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শিমুল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তারা মানববন্ধনে যোগ দেন। তবে এমপির বক্তব্যের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে কলেজ শিবির সভাপতি ওয়াসকরুনী ফারাবি দাবি করেন, আগে থেকেই এমপির আগমন ঠেকাতে একটি পক্ষ পরিকল্পনা করেছিল।
যদিও কলেজ অধ্যক্ষ মোল্লা মো. রুহুল আমীন বলেন, “গাছ কাটার বিষয়টি তদন্তাধীন। কলেজের পরিবেশ নষ্ট করতে একটি পক্ষ এসব করছে।” তিনি আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও নাকচ করেন।
আরও পড়ুন:








