বৃহস্পতিবার

৭ মে, ২০২৬ ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে স্থবির বিএনপি, হতাশ পদপ্রত্যাশীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ মে, ২০২৬ ০৮:২৬

শেয়ার

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিতে স্থবির বিএনপি, হতাশ পদপ্রত্যাশীরা
ছবি সংগৃহীত

ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিল ও নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও বাস্তবে কোথাও পাঁচ বছর, কোথাও এক যুগ ধরেও একই নেতৃত্ব বহাল রয়েছে। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব বিকাশের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। এরপর আর কাউন্সিল না হলেও দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে ধারাবাহিকভাবে পরিবর্তন ও নতুন মুখ যুক্ত করা হয়েছে। তবে দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, বর্তমানে সরকারের কার্যক্রম পরিচালনাই শীর্ষ নেতৃত্বের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়ায় চলতি বছর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা কম।

দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও রয়েছে একাধিক শূন্য পদ। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিবসহ এই কমিটিতে সদস্য থাকার কথা ১৯ জন। তবে কয়েকজন সদস্যের মৃত্যু ও পদত্যাগজনিত কারণে বর্তমানে কমিটি কার্যত অপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা গত কয়েক বছরে মারা গেছেন। এছাড়া মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় তার পদও শূন্য হয়েছে।

বিএনপির অঙ্গসংগঠন হিসেবে রয়েছে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল। সহযোগী সংগঠন হিসেবে রয়েছে ছাত্রদল ও শ্রমিক দল। এসব সংগঠনের অধিকাংশেরই পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র নেই কিংবা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি।

যুবদলের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে। সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বাধীন সেই কমিটি এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এর মধ্যে নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান দুজনই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজীব বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। একইভাবে কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের কমিটির মেয়াদও দেড় বছর আগে শেষ হয়েছে। বাবুলও বর্তমানে সংসদ সদস্য।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০২৪ সালের মার্চে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। সাম্প্রতিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের ধারাবাহিক পরাজয়ের পর সংগঠনটির পুনর্গঠন ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের দাবি জোরালো হয়েছে।

মহিলা দলের কমিটি ২০১৬ সাল থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের নেতৃত্বাধীন কমিটি প্রায় এক দশক পার করছে। একইভাবে মুক্তিযোদ্ধা দল, শ্রমিক দল, তাঁতী দল, জাসাস ও মৎস্যজীবী দলের কমিটিও দীর্ঘদিন ধরে পুনর্গঠন হয়নি।

বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা দলের বর্তমান কমিটি গঠিত হয়েছিল ২০১৩ সালে। শ্রমিক দলের সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ২০১৪ সালে। মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০১৯ সালে, যা পরে বিলুপ্ত হলেও নতুন কমিটি আর হয়নি। তাঁতী দলের আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২২ সালেই। জাসাসের আহ্বায়ক কমিটিও প্রায় পাঁচ বছর ধরে বহাল রয়েছে।

দীর্ঘদিন কাউন্সিল না হওয়ায় পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, নতুন নেতৃত্বের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় সংগঠনের ভেতরে কোন্দল ও নিষ্ক্রিয়তা বাড়ছে। নির্বাচনের পর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পদে যেতে আগ্রহীদের দৌড়ঝাঁপও বেড়েছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা লবিং শুরু করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার গঠনের পর ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ঈদুল আজহার পর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো নতুনভাবে গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



banner close
banner close