ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক আলোচনায় শাহবাগ আন্দোলনকে ‘শতবর্ষী প্রজেক্ট’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। একইসঙ্গে তিনি শাপলা চত্বর ঘটনার বিচারসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন সংলগ্ন আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘শাপলা ও শাহবাগ : মুসলিম রাজনৈতিকতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের দ্বৈরথ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্রশিবির ঢাবি শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং ‘সোচ্চার’-এর সভাপতি ড. শিব্বির আহমদ।
আলোচনায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ইসলামপন্থী ও রাষ্ট্রীয় নীতিমালার মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। তিনি অতীতের আন্দোলনগুলোতে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
ড. শিব্বির আহমদ বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অতীতে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিভিন্ন ঘটনায় নাগরিক নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদিক কায়েম বলেন, ‘শাহবাগ একদিনে তৈরি হয়নি, এটি একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ফল।’ তিনি দাবি করেন, অতীতের রাজনৈতিক আন্দোলন ও ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু বিচার হয়নি এবং এসব বিষয়ে পুনরায় তদন্ত প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিচারের রোডম্যাপ ঘোষণা করা জরুরি। পাশাপাশি নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সাদিক কায়েম পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন-
১। শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত কমিশন গঠন ও বিচার নিশ্চিত করা।
২। ঘটনাটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
৩। নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৪। বিচারের জন্য পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ঘোষণা।
৫। মানবাধিকার সংগঠন ও ভুক্তভোগী পরিবারদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ।
সভায় ছাত্রশিবির ঢাবি শাখার সভাপতি মুহা. মুহিউদ্দীন খান বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ইতিহাস ও বিচার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষার্থী অংশ নেন এবং সিরাতবিষয়ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।
আরও পড়ুন:








