ফেনীতে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার এক আসামিকে দলীয় পদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। রোববার (৩ মে) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তথ্য গোপন করে পদ গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং ফেনী পৌর যুবদলের কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফেনী পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া এনামুল হক সুজনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফেনী পৌর যুবদলের বর্তমান কমিটির সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল ঘোষিত ওই ওয়ার্ড কমিটিকেও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অনুমোদনের দায়ে ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হলে সেখানে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এনামুল হক সুজনকে মনোনীত করা হয়। তবে ২০১৭ সালে মহিপালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি হওয়ায় তার এই পদপ্রাপ্তি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রতিবাদ হিসেবে কমিটির আট সদস্যের মধ্যে ছয়জন একযোগে পদত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে আসে এবং তারা দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ওই হামলা মামলায় সুজন ২৫ নম্বর আসামি ছিলেন। গত ৫ আগস্টের পর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয় এবং বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করছে। তদন্তাধীন মামলার আসামিকে দলীয় পদ দেওয়ায় যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ফলে তা আপাতত প্রশমিত হয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন।
আরও পড়ুন:








