শনিবার

২ মে, ২০২৬ ১৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

বিএনপি-জামায়াত ‘লড়াই’ গরুর হাট ইজারা, দর বেড়েছে কয়েকগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ মে, ২০২৬ ১৬:০৯

শেয়ার

বিএনপি-জামায়াত ‘লড়াই’ গরুর হাট ইজারা, দর বেড়েছে কয়েকগুণ
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীতে কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা ঘিরে এবার নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। সরকারি মূল্য কমানো হলেও দরপত্রে প্রতিযোগিতা বেড়েছে, আর সেই প্রতিযোগিতার বড় অংশজুড়ে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের অংশগ্রহণ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় চলতি বছর ১১টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে একই প্রবণতা—খাতা-কলমে হাটের আয়তন কমিয়ে সরকারি মূল্য কমানো হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে দর উঠেছে অনেক বেশি।

যাত্রাবাড়ীর কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বড় হাটের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক কোটি টাকা কম। কিন্তু দরপত্রে অংশ নেওয়া চারটির মধ্যে তিনটিতেই ৪ কোটি টাকার বেশি দর এসেছে। সর্বোচ্চ দর ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

এ ধরনের চিত্র শুধু একটি হাটেই নয়—ডিএসসিসির প্রায় সব হাটেই দেখা গেছে। কোথাও সরকারি মূল্য কমলেও দর দ্বিগুণ বা তারও বেশি উঠেছে।

এবারের বড় পরিবর্তন এসেছে নিয়ন্ত্রণে। গত প্রায় ১৭ বছর রাজধানীর পশুর হাট মূলত আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতাদের দখলে থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গত বছর বিএনপি নেতারা প্রভাব বিস্তার করেন। তবে এবার জামায়াতও সরাসরি অংশ নেওয়ায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।

এই প্রতিযোগিতা কখনো সংঘর্ষেও গড়িয়েছে। যাত্রাবাড়ী এলাকায় দরপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে, পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়।

ডিএসসিসি সূত্র বলছে, ঊর্ধ্বতন নির্দেশনায় হাটের সরকারি মূল্য কমাতে জায়গার নাম ও আয়তন পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে একাধিক রাজনৈতিক পক্ষ দরপত্রে অংশ নেওয়ায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে, ফলে দরও বেড়েছে।

কিছু ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অভিযোগও উঠেছে। দুটি হাটে কোনো দরপত্রই জমা পড়েনি, আবার একটি হাটে সরকারি মূল্যের চেয়েও কম দর পড়েছে।

অন্যদিকে, অনেক হাটে আগের বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে ইজারা হয়েছে। যেমন—কমলাপুর, গোলাপবাগ, আমুলিয়া ও শাহজাহানপুর এলাকায় সরকারি মূল্য কমলেও দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেশি দর দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট—সরকারি মূল্য কমানো হলেও মাঠের বাস্তবতায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে, আর সেই প্রতিযোগিতার কেন্দ্রেই রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও অর্থনৈতিক স্বার্থের হিসাব।



banner close
banner close