সোমবার

২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

সরকারে গতি, সংগঠনে ভাটা: বিএনপিতে স্থবিরতার আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:২০

শেয়ার

সরকারে গতি, সংগঠনে ভাটা: বিএনপিতে স্থবিরতার আভাস
ছবি সংগৃহীত

প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় এসে সরকার পরিচালনায় গতি আনলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দৃশ্যমান স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সরকার গঠনের দুই মাসের মধ্যে প্রশাসনিক ব্যস্ততা বেড়েছে, তবে দলীয় কার্যক্রমে আগের মতো সক্রিয়তা নেই বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

সরকার পরিচালনায় ব্যস্ততার কারণে মন্ত্রী, এমপি এবং শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই এখন প্রশাসনিক কাজে মনোনিবেশ করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকারি কর্মকাণ্ডে চাঙাভাব দেখা গেলেও দলীয় কার্যক্রমে সেই গতি অনুপস্থিত। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, যা জাতীয় নির্বাচনের আগে নিয়মিত কর্মী-সমাগমে মুখর ছিল, বর্তমানে অনেকটাই ফাঁকা দেখা যাচ্ছে।

দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বেড়েছে। সংসদীয় কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হলে সাংগঠনিক পুনর্গঠনে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, শীর্ষ নেতাদের বড় অংশ সরকারের দায়িত্বে থাকায় সংগঠনে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে অনেক নেতা-কর্মী এখন ব্যক্তিগত প্রত্যাশা পূরণ ও প্রভাব বিস্তারের দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। এর ফলে সংগঠনকেন্দ্রিক রাজনীতি দুর্বল হচ্ছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের মধ্যে আগের মতো উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না।

রাজধানীর নয়াপল্টনে নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন না অধিকাংশ শীর্ষ নেতা। দলের মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী ছাড়া বড় নেতাদের উপস্থিতি সীমিত। মাঝে মাঝে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সফরে কিছুটা কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজপথে বিরোধী দলের সক্রিয়তা কম থাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সংসদকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। দলকে সুসংগঠিত করতে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এদিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চলতি বছর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক দায়িত্ব বৃদ্ধির কারণে সংগঠনে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে দলকে সক্রিয় রাখতে হলে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সংগঠন পুনর্গঠন এবং নেতৃত্বের ঘাটতি পূরণ জরুরি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. শামসুল আলমের মতে, সরকার ও দল—দুই দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে সংগঠনে চাপ পড়েছে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের দায়িত্বে আনা প্রয়োজন।

সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদার এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপি। তবে সরকারের পাশাপাশি দলীয় সংগঠনকে সমানভাবে সক্রিয় রাখা এখন দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।



banner close
banner close