নেত্রকোনার পূর্বধলায় তেলের পাম্পে জ্বালানি নিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মোস্তফা মাসুম। হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার মেসার্স গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার দিকে মেসার্স গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় সংসদ সদস্য মোস্তফা মাসুম নিজের গাড়ির জন্য তেল নিতে পাম্পে উপস্থিত হন। সেখানে তেলের জন্য অপেক্ষমাণ বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল চালক ও স্থানীয় জনতার ভিড় দেখে মোস্তফা মাসুম উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর প্রশাসনের মধ্যস্থতায় উপস্থিত সবার মাঝে তেল সরবরাহ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তেল দেওয়ার একপর্যায়ে সংসদ সদস্য পাম্পসংলগ্ন নামাজ ঘরে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে যান। এসময় একদল লোক অতর্কিতভাবে তার গাড়িতে হামলা চালায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি নামাজ ঘরের ভেতরেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এসময় হামলাকারীদের আঘাতে বিশ্বনাথপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির বাবলু মিয়া আহত হন।
উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জয়নাল আবেদীন জানান, এই অপ্রীতিকর ঘটনার একটি পূর্বসূত্র রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জামায়াত কর্মীর একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে পূর্বধলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ ধরেই আজকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
হামলার বিষয়ে সংসদ সদস্য মোস্তফা মাসুম কালবেলাকে বলেন, ‘বিএনপির কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে আমরা দলীয়ভাবে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেব। তবে, আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবেও মোকাবিলা করা হবে।’
এদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার বলেন, ‘পাম্পের এই ঘটনার পর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জয়নাল আবেদীন সাহেব আমাকে ফোন করেন। খবর পাওয়া মাত্রই আমি লোকজন নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই এবং প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আমার গাড়ির পাহারায় তাদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিই।’
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনিম জাহান বলেন, ‘ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িতে করে এমপিকে নিরাপদে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার। এ বিষয়ে তার কাছে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
আরও পড়ুন:








