শুক্রবার

২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩

সংসদীয় আসনে কম বরাদ্দ: এমপিদের চাপে পড়তে পারে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:২১

শেয়ার

সংসদীয় আসনে কম বরাদ্দ: এমপিদের চাপে পড়তে পারে সরকার
ছবি এআই জেনারেট

তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের ২৮০টি সংসদীয় আসনে অর্থ ও খাদ্যশস্য বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তবে বরাদ্দের পরিমাণকে অপ্রতুল আখ্যা দিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক সংসদ সদস্য। ফলে চলমান সংসদ অধিবেশনে এ ইস্যুতে সরকারকে চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে থাকা আসনগুলোতে এ বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শহরাঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম মেয়র বা নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় সেসব আসন এই বরাদ্দের বাইরে রাখা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য এককালীন ৫৫ লাখ টাকা এবং ২০০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দের প্রস্তাব ছিল। তবে মন্ত্রীর অসুস্থতার কারণে তার মৌখিক সম্মতিতে প্রথম ধাপে বরাদ্দ কমিয়ে প্রতিটি আসনের জন্য ২৫ লাখ টাকা এবং খাদ্যশস্য দেওয়া হয়। পরে আরও একটি দফায় কিছু বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যদের অনুকূলে প্রথম দফার নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা যাবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ বরাদ্দ মূলত ধর্মীয় উপাসনালয়, কবরস্থান ও শ্মশান সংস্কার, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নসহ ছোটখাটো অবকাঠামোগত কাজে ব্যয় হবে। পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল জনগণের সহায়তায় খাদ্যশস্য ব্যবহার করা হবে।

তবে অনেক সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তার মতে, বর্তমান বাজারদর ও উন্নয়ন ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করলে এই বরাদ্দ কার্যত ‘নামমাত্র’। একাধিক সূত্র জানায়, একটি উপজেলায় একাধিক ইউনিয়নে ভাগ করে দিলে প্রতিটি এলাকায় যে পরিমাণ অর্থ পড়ে, তা দিয়ে একটি ছোট কালভার্ট নির্মাণও সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা—জ্বালানি ও নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির প্রভাব মিলিয়ে উন্নয়ন বরাদ্দ সীমিত রাখা হচ্ছে।

এ অবস্থায় সংসদ সদস্যরা তাদের নির্বাচনি এলাকায় প্রত্যাশিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে না পারলে জনঅসন্তোষ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব সংসদেও পড়তে পারে এবং বাজেট অধিবেশনসহ বিভিন্ন অধিবেশনে বিষয়টি ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’-এ তোলা হতে পারে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, সব আসনের ভৌগোলিক বাস্তবতা এক নয়, ফলে বর্তমান বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম। অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বর্তমান আর্থিক বাস্তবতায় বরাদ্দ পুরোপুরি অপ্রতুল নয়, তবে ভবিষ্যতে তা বাড়তে পারে।

নির্বাচন বিশ্লেষক ড. আবদুল আলীমের মতে, সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না রেখে নীতিনির্ধারণ ও তদারকির ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখাই যুক্তিযুক্ত।

এদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বরাদ্দ থেকে পূর্বে সংসদ সদস্যদের জন্য ৯০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হতো। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এই ব্যবস্থা বাতিল করে পুরো অর্থ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যয় করেছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন করে আবার থোক বরাদ্দ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রভাবশালী সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার ঝুঁকি এবং বরাদ্দ বণ্টনে বৈষম্য বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বরাদ্দের স্বচ্ছতা ও কার্যকর ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



banner close
banner close