বৃহস্পতিবার

২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১০ বৈশাখ, ১৪৩৩

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক মামলার তদন্ত থমকে আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:১৪

শেয়ার

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক মামলার তদন্ত থমকে আছে
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। গত ৩১ জানুয়ারি হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট করার ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় মামলা হয়। তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-দক্ষিণ ইউনিট জানিয়েছে, মামলার বাদীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ডিভাইস জব্দ করা যায়নি বলে তদন্ত আটকে আছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমসহ অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জন বেআইনিভাবে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেন। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে নারীর প্রতি বিদ্বেষ, অশ্লীলতা, জাতিগত সহিংসতা, ঘৃণা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা ছড়ানোর মতো পোস্ট করা হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে দ্রুত অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবে ডিবি এক্স কর্তৃপক্ষের কাছে অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়। এক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, কোনো ব্যক্তির অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে হলে দুই দেশের আদালতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রেজাউল আমীন মামলার বাদী সিরাজুল ইসলামের কাছে ডিভাইসসহ অন্যান্য আলামত জব্দের জন্য চারবার চিঠি দেন। পরে আদালতের মাধ্যমেও ডিভাইস চাওয়া হয়। কিন্তু ডিভাইস জমা দেওয়া হয়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলার বাদীর কাছে চিঠি দিয়ে ডিভাইস চাওয়া হয়েছে। তারা ডিভাইস জমা দেননি। আদালতের মাধ্যমেও চাওয়া হয়েছে, কিন্তু পাওয়া যায়নি। এতে তদন্তের অগ্রগতি থমকে আছে।

অভিযোগ প্রমাণের জন্য ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা জরুরি কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, ডিভাইসই প্রধান আলামত। ওটা না পেলে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করা কঠিন।

জিডির তদন্ত শুরুর পর ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর এজিবি কলোনির বাসা থেকে মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করে ডিবি। তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ডিবি তাকে গ্রেফতার দেখায়। ওই দিন রাত ১১টায় মিন্টো রোডে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, যথেষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের মেইল ব্যবহার করে হ্যাক হয়েছে কি না—তা নিশ্চিত করা যায়নি। এজাহারের সঙ্গে সংযুক্ত স্ক্রিনশট ছাড়া অন্য কোনো শক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। গ্রেফতারের পর ছরওয়ারে আলম আদালতে জামিন পান।

তদন্তকারীরা জানান, ডিভাইস জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষা না করা পর্যন্ত মামলার অগ্রগতি সম্ভব নয়। বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



banner close
banner close