মঙ্গলবার

২১ এপ্রিল, ২০২৬ ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভাঙন, কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:২৬

শেয়ার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভাঙন, কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ
ছবি এআই জেনারেট

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তীব্র ভাঙনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নেতৃত্ব সংকট, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোটি টাকার বেশি অর্থ লুটপাটের অভিযোগও সামনে এসেছে।

সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ ও দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দেওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পদত্যাগ ও দলত্যাগে সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় জরুরি বৈঠকে কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে সংগঠনের একটি অংশ এই সিদ্ধান্তকে ‘অগণতান্ত্রিক ও একতরফা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এভাবে কমিটি ভেঙে দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই।

অন্যদিকে, সংগঠনের ভেতরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আরও উত্তেজনা তৈরি করেছে। সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে দাবি করা সিনথিয়া জাহীন আয়েশা অভিযোগ করেন, কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই কয়েকজন শীর্ষ নেতা সংগঠন ছেড়ে রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে শিগগিরই প্রেস ব্রিফিং করে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

গত ১৮ এপ্রিল প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুঈনুল ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের স্বাক্ষরে কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিত এবং পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরিষদের সদস্যরা হলেন—আবু সাঈদ লিওন, হামযা মাহবুব, তারিকুল ইসলাম (রেজা), মুঈনুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেন। ৩০ দিনের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে।

এদিকে, উপদেষ্টা পরিষদের সমালোচনা করায় সিনথিয়া জাহীন আয়েশাকে সংগঠনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংগঠনের ভেতরের বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুঈনুল ইসলাম দাবি করেন, সভাপতি ও মুখ্য সমন্বয়কসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হয়ে পড়ায় কমিটি কার্যত অকার্যকর হয়ে যায়, ফলে সাংগঠনিক কাঠামো সচল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং সংগঠনে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে, সদ্য সাবেক দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়া ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং নতুন কমিটি গঠনের সময় এ ধরনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অভিযোগ স্বাভাবিক ঘটনা।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর থেকেই সংগঠনটির দৃশ্যমান কার্যক্রম কমে আসে এবং অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন বাড়তে থাকে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে ঘোষিত প্রেস ব্রিফিং এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন সবার দৃষ্টি।



banner close
banner close