রবিবার

১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

বিএনপির কার্যালয় ও দোকানে আ.লীগের হামলা-ভাঙচুর, আহত ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:০৭

শেয়ার

বিএনপির কার্যালয় ও দোকানে আ.লীগের হামলা-ভাঙচুর, আহত ২০
ছবি সংগৃহীত

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের প্রায় ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা ও তার সহযোগীরা ২০২০ সালে ওই জমির একটি অংশ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেন। এ নিয়ে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

শুক্রবার ১৭ এপ্রিল বিকেলে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি সালিস বৈঠকের কথা থাকলেও চেয়ারম্যানপক্ষ উপস্থিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দেন।

এর জেরে শনিবার বিকেলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানপক্ষের সমর্থকরা চরপাড়া বাজার এলাকায় এসে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় ছিরু মাতুব্বরের সারের দোকান, জাহিদুল ইসলামের বাড়ি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা নেতা এনামুল চৌধুরীর বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নেয়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন মোল্যা জানান, হাইকোর্টের রায় থাকার পরও তিনি জমির দখল বুঝে পাননি এবং বর্তমানে জমিটি চেয়ারম্যানপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর এবং মারধরের অভিযোগ করেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ছিরু মাতুব্বর জানান, তার সারের দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা জানান, তার বাজারের দোকানে তালা লাগানো হয়েছে এবং তার লোকজনকে উসকানি দেওয়া হয়েছে। বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, প্রতিপক্ষের লোকজনই ভাঙচুর করে দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।



banner close
banner close