রবিবার

১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

স্থানীয় নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে চায় ইসলামী দলগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:২৫

শেয়ার

স্থানীয় নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে চায় ইসলামী দলগুলো
ছবি সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফলের পর আত্মসমালোচনায় নেমেছে ইসলামী ধারার সাতটি রাজনৈতিক দল। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা নতুন কৌশলে সংগঠন পুনর্গঠন, প্রার্থী বাছাই ও জোট-সমীকরণ নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, এককভাবে ২৫৮টি আসনে অংশ নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাত্র একটি আসনে জয় পায়। ইসলামী ঐক্যজোট দুটি আসনে অংশ নিয়ে কোনো আসন পায়নি। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপি জোটের শরিক হয়ে চারটি আসনে লড়লেও জয় পায়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি আসনে জয় পায় এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে বিজয়ী হয়। তবে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি কোনো আসন পায়নি।

নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নেতারা প্রার্থী বাছাই, জোট নির্ভরতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতাকে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, নির্বাচনী কৌশল ও অবস্থানগত সিদ্ধান্তে পরিবর্তন ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জোটগত ও একক—দুই ধরনের কৌশল বিবেচনা করছে। দলগুলোর নেতারা জানান, প্রার্থী নির্বাচন ও প্রচারণা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জাতীয় নির্বাচনে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এখন তৃণমূল পুনর্গঠনে জোর দিচ্ছে। দলটির মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, জোটগত সমন্বয়হীনতা ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম সীমিত রাখলেও ঘরোয়া কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠন সক্রিয় করার চেষ্টা করছে। তারা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের ব্যর্থতার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনই এসব দলের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। নতুন কৌশল ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন কতটা কার্যকর হয়, তার ওপর নির্ভর করবে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান।



banner close
banner close